জয়পুরহাটে ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:০০ এএম

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে পাঁচবিবি থানার পাশে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ফারুক হোসেন পাঁচবিবি পৌর শহরের দানেজপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে। পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে যুবলীগ সদস্য আনিছুর রহমান শিপনের সঙ্গে বাগ্বিত-ার জেরে বিএনপি নেতা ডালিমের একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার রাতে তিনি বিএনপি ও ছাত্রদলের আরও নেতাকর্মীর সঙ্গে পাঁচবিবি থানায় মামলা করতে যান। তখন থানার পাশে পার্কের সামনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একটি দল বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের ধাওয়া করে। তখন ফারুক হোসেন পড়ে যান। এ সময় তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের মা বিলকিস বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।

ফারুকের মামা আমজাদ শেখ বলেন, ‘ওর বাবা দুবাইপ্রবাসী। পরিবারের বড় ছেলে ফারুখ লেখাপড়া শেষ করেছে, এখন চাকরি করে সংসারের হাল ধরবে, কিন্তু রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা আমাদের সে আশা পূরণ করতে দিল না।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতারা। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মিন্নুর বলেন, ‘যুবলীগের কেউই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। প্রমাণ করতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব জানান, এ ঘটনায় পাঁচবিবি মহিপুর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ কর্মী আনিসুর রহমান ও মুজাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই ঘটনার পর ফারুককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। এর পরই চারজনকে আটক করা হয়েছে। সিসি টিভির ফুটেজ দেখাসহ সব বিষয়ে মামলার তদন্ত চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত