জার্মানিতে ১৬ বছর পর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল যুগের অবসান হলো। নতুন চ্যান্সেলর হিসেবে শপথ নিয়েছেন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) নেতা ওলাফ শলৎজ। গত বুধবার শপথের আগে বার্লিনের পার্লামেন্ট ভবন বুন্ডেশটাগে ৭৩৬ এমপির মধ্যে ৭০৭ জন ভোট দেন। নবম চ্যান্সেলর হতে ৩৬৯ ভোট প্রয়োজন হলেও ওলাফ পান ৩৯৫টি। তার বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩০৩টি, ছয়জন ভোটদানে বিরত ছিলেন।
ভোটের পর ওলাফ জার্মান প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে যান। সেখানে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার তার হাতে নবম ফেডারেল চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক পত্র তুলে দেন। এরপর তিনি আবার বুন্ডেশটাগে ফিরে যান এবং সেখানেই শপথ নেন।
বিবিসি বলছে, জার্মানিতে জোট বেঁধে সরকার গঠনের রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। কিন্তু এই প্রথম সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এফডিপি) একসঙ্গে জোট বাঁধে। দেশটিতে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন রঙের প্রতীক রয়েছে। জোটবদ্ধ এ তিন দলের প্রতীক লাল, সবুজ ও হলুদ।
ওলাফের নতুন মন্ত্রিসভায় ১৬ সদস্য থাকছেন। তাদের মধ্যে সাতজন থাকছেন শলৎজের এসপিডি থেকে,পাঁচজন পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি এবং চারজন এফডিপি থেকে। মেরকেলের মন্ত্রীরা ওলাফের মন্ত্রীদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। আর মেরকেলের অধীনে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ওলাফ তার দায়িত্ব তুলে দেবেন নতুন অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনারের হাতে।
গত সেপ্টেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ওলাফের মধ্য বামপন্থি এসপিডি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে এবং দুই মাসের দীর্ঘ আলোচনার পর গ্রিন পার্টি ও এফডিপির সঙ্গে জোট করে।
জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লড়াইয়ে উচ্চাকাক্সক্ষী পরিকল্পনা আছে জার্মানির নতুন সরকারের। তবে প্রাথমিকভাবে ওলাফের সরকার করোনা মোকাবিলাকেই অগ্রাধিকার দেবে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টুইটে নতুন চ্যান্সেলর ওলাফকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘ইউরোপের ভবিষ্যৎ গঠনে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। আমরা ফরাসিদের জন্য, জার্মানদের জন্য, ইউরোপীয়দের জন্য একসঙ্গে পরবর্তী অধ্যায় লিখব।’
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিনও বলেছেন, তিনি ওলাফের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘আমি আপনার শুভসূচনা কামনা করছি এবং একটি শক্তিশালী ইউরোপের জন্য আরও আস্থাপূর্ণ সহযোগিতা পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’
