বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের দাপটে অতিষ্ঠ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যেই খবর আসল মার্কিন মুলুকের বিভিন্ন প্রদেশ ছেয়ে গিয়েছে এক বিশেষ ধরণের চীনা নাশপাতি গাছে। যার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য তো নষ্ট হচ্ছেই, তার উপর বিকট গন্ধে অস্থির হচ্ছেন আমেরিকার বাসিন্দারা।
ছাতিম কিংবা মহুয়ার গন্ধেও মাদকতা আছে। বন্যপ্রাণীর উপর সেই গন্ধের প্রভাবও পড়ে। কিন্তু, গাছের গন্ধে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার ঘটনা যথেষ্ট বিরল। সেই ‘বিরল’ অভিজ্ঞতাই সঞ্চয় করে ফেলেছে মার্কিনিরা।
মার্কিন নাগরিকদের দাবি, এই নাশপাতি গাছ থেকে পঁচা মাছের দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এমনকি গাছগুলো কেটে ফেলতে পারলে পুরস্কৃত করা হবে, এমনটাও বলা হচ্ছে। তবে এতেও কোনও সুরাহা হচ্ছে না।। পুরস্কারের বিনিময়ে গাছ কাটতে চাইছেন না কেউই।
রাতারাতি যে গাছটি সমগ্র আমেরিকার কাছে ‘ভিলেন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার নাম ক্যালেরি পিয়ার (Callery Pear)। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম পাইরাস ক্যালেরিয়ানা (Pyrus Calleryana)। বিশ শতকে ওই গাছটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। এই গাছের সাদা ফুলের সৌন্দর্য আমেরিকানদের মনে ধরেছিল।
তবে উদ্যানবিদদের মতে, ভিন দেশের গাছ অন্য দেশে রোপন করলে তারা এক সময় দেশীয় প্রজাতির গাছের বাড়বাড়ন্ত নষ্ট করে দেয়। খুব দ্রুত নিজেদের বিস্তার ঘটাতে শুরু করে। এতে দেশীয় অন্য গাছেদের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সংকট দেখা দেয়। যা পরিবেশের পক্ষে মোটেও ভালো নয়।
ঠিক এমনটাই ঘটছে আমেরিকার বেশ কয়েকটি প্রদেশে। জানা গিয়েছে, বিশ শতকের শুরু থেকেই মূলত চীন ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকেই এই বিশেষ প্রজাতির গাছ আমেরিকায় আসতে শুরু করে।
১৯৬০ সালের পর চীন থেকে আসা এই গাছ তার ফুলের মোহে আবিষ্ট করে মার্কিন মুলুকের বাসিন্দাদের। সেই কারণে প্রত্যেকেই নিজেদের ‘লন’-এ নতুন বিদেশী গাছ রোপন করতে শুরু করেন। এক সময় সাদা ফুলের ওই গাছে ছেয়ে যায় আমেরিকার উত্তর-পূর্ব এবং মধ্য-পশ্চিমাংশের বিভিন্ন প্রদেশের শহরতলী।
কিন্তু, এক্ষেত্রে মূলত দুটি সমস্যা হচ্ছে। এক, আমেরিকায় যেসব গাছ জন্মায়, তা ধ্বংস করছে ক্যালেরি পিয়ার ট্রি। দুই, সাদা ফুল যতই দৃষ্টিনন্দন হোক না কেন, তাতে অদ্ভূত ধরণের গন্ধ রয়েছে। গাছ বাড়ায়, গন্ধও বাড়ছে।
নর্থ ক্যারোলিনার প্রশাসন পরিবেশ বাঁচাতে ক্যালেরি পিয়ার ‘নিধন যজ্ঞ’ শুরু করতে চাইছে। আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে সমস্ত ক্যালেরি পিয়ার গাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে সে রাজ্যে। কিন্তু এত গাছ কাটবে কে! তার উপর দুর্গন্ধ। গাছ কাটার জন্য বারবার পুরস্কার ঘোষণা করেও ফল মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।
তবে এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি করে বলা হয়েছে, নিজের বাড়ির বা সংলগ্ন এলাকার গাছ কেটে ফেলতে হবে বাড়ির মালিককেই। শুধু তাই নয়, যাঁরাই গাছ কাটবেন, তাঁদের পুরস্কৃত করবে সরকার।
আমেরিকার একেবারের উত্তর-পূর্বের প্রদেশ মেইন। সেখানকার অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। কারণ, এখনও সেখানে দেশীয় গাছেদের উপর আক্রমণ শানাতে পারেনি ক্যালেরি। তবে গাছে ফুল ফুটলেই এখন বিরক্তি জন্মায় সেখানকার বাসিন্দাদের মনে। তাঁদের দাবি, ওই ফুল থেকে পঁচা মাছের মতো গন্ধ বেরোয়। সেই কারণেই নর্থ ক্যারোলিনার মতো মেইন প্রশাসনও গাছ কেটে ফেলার লোক খুঁজতে আরম্ভ করেছে। কিন্তু, সেক্ষেত্রেও ফল একইরকম।
এ প্রসঙ্গে মেইনের কৃষি ও বনসৃজন বিভাগের এক উদ্যানতত্ত্ববিদ বলেন, ‘মানুষ ফুলের মোহে ভুলে গাছ লাগিয়েছিল। একবারও ভাবেনি এতে পরিবেশের কী ক্ষতি হতে পারে। এখন নিজেরাই দুর্গন্ধে অস্থির’।
