পরের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা শুরুই হয়নি

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫৪ পিএম

গত বিশ্বকাপে অনেক উচ্চাশা নিয়ে যায় বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনালে খেলা। ঘরের মাঠে আসরের আগে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আশার পালে হাওয়া দিয়েছিলের মাহমুদউল্লাহরা। কিন্তু টুর্নামেন্টে শুরুতেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারে সবকিছুই ওলটপালট হয়ে যায়। এর সঙ্গে মাঠের বাইরের নানা ঘটনা বাংলাদেশকে যেন টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দেয়। তাই মূল পর্বের শেষের ম্যাচগুলোয় ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা দেখে মনে হচ্ছিল আসর শেষ হলেই বাঁচেন তারা। ওই বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফিরে তা ভুলে যাওয়ার প্রত্যয় ছিল। পরের বিশ্বকাপ মাথায় রেখে দল পুনর্গঠনের রব ওঠে। এজন্য তামিম ইকবাল ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার সঙ্গে আলাদা করে আলাপ করেছিলেন বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপন। কিন্তু ফলাফল শূন্য। ২০২২ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকলেও তা নিয়ে এখন পরিকল্পনা শুরু হয়নি বাংলাদেশের। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহই জানালেন এমনটা।

গতকাল বিসিবি অ্যাকাডেমি কাপের উদ্বোধন করতে মিরপুরে আসেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। সেখানে পরের বিশ্বকাপ নিয়ে দলের পরিকল্পনার ব্যাপারে বলতে গিয়ে আটকে গেলেন। কোচ, ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচকরা এখনো কাজ শুরু করেননি বলে জানান। পরে মাহমুদউল্লাহ নিজের বক্তব্য দিয়ে আরও উন্নতির কথা বললেন, ‘পরের বিশ্বকাপ পরিকল্পনার বিষয়টা তো আসলে আমার অংশ না মূলত। এটা ডেভেলপমেন্টে যারা আছেন বা নির্বাচক প্যানেলে যারা আছেন, ম্যানেজমেন্ট আছেন উনারা ভালো বলতে পারবেন। আমি শুধু খেলোয়াড়ি দিক থেকে বলতে পারি যে জিনিসগুলো হয়ে গেছে সেগুলো নিয়ে অবশ্যই চিন্তা করতে হবে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এলে যেন আরও উন্নতি করতে পারি এবং এ জিনিসগুলো নিয়ে যেন ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি।’

আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের কাজ শুরু না হওয়ার কারণ আছে। কোচই তো নিশ্চিত নন এখনো। নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর বর্তমান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর বিদায়ঘণ্টা বাজতে পারে। বিশ্বকাপের আগে এই কোচের সঙ্গে নতুন চুক্তি করলেও আসরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তাকে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। চুক্তিতে পূর্ণ বেতন পরিশোধের একটি বিষয় ছিল, কিন্তু বিসিবি তা পাশ কাটানোর পথ তৈরি করেছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজই ডমিঙ্গোর শেষ সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই কোচ নিশ্চিত না হওয়ায় বাংলাদেশ এখনো পরবর্তী বিশ্বকাপের পরিকল্পনা শুরু করতে পারছে না।

তবে মাহমুদউল্লাহ অধিনায়ক হিসেবে ভালো খেলার পরিকল্পনাকেই সামনে রাখছেন। এই বিশ্বকাপের বাজে দিকগুলো কাটিয়ে ওঠার আশা রাখলেন, ‘পরিকল্পনা তো নিশ্চিতভাবে ভালো খেলার। আমি সব সময়ই ইতিবাচক জিনিসগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পছন্দ করি। হ্যাঁ, অবশ্য শেষ বিশ্বকাপ ও পাকিস্তান সিরিজে ভালো ক্রিকেট আমরা খেলতে পারিনি। কিন্তু আপনি যদি পুরো বছরটা দেখেন, আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। হোম কন্ডিশনে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সিরিজ, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ। সো এখানে কিছু ইতিবাচক দিক আছে। আমি সব সময় বিশ্বাস করি এবং আমি আমার দলের সঙ্গেই আছি। এর আগেও যখন আমরা জিনিসগুলো কামব্যাক করতে পেরেছি, এবারও পারব ইনশাআল্লাহ।’

ঘরের মাঠে পারফরম করেও বিদেশে গিয়ে না পারায় বড় আসরে বাংলাদেশের ওপর আস্থা হারান সমর্থকরা। মাহমুদউল্লাহর বিশ্বাস এই বিষয়টা কেটে যাবে দল ধারাবাহিক হলেই। তার জন্য অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন মাথায় রেখে এগোতে হবে বলে মনে করেন মাহমুদউল্লাহ। সামনের বিশ্বকাপের জন্য অধিনায়কের চোখে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি, ‘অনেক পথ পাড়ি দেওয়ার বাকি আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন খুবই ভালো। ট্রু বাউন্স, ট্রু পেস থাকে। এখন বিষয়টা আমাদের ওপর, কীভাবে আমরা জিনিসটা হ্যান্ডেল করি। আগে যে জিনিসটা বলে আসছি, সম্ভবত আমাদের ব্যাটিং ইউনিটকে আরও ভালো করতে হবে। টি-টোয়েন্টিতে সব সময় আস্কিং রেট অনেক বেশি থাকে। চাপ থাকে, আশা থাকে। চাপ সব সময় থাকবে। দিনশেষে অনেক সময় আমরা করতে পারি আবার করতে পারি না। রেজাল্ট হোক বা পারফরম্যান্স হোক, যদি আমরা একটু ধারাবাহিক হই তাহলে আমাদের ওপর ওই আস্থাটাও বাড়বে।’

শেষে আবারও ওমান-আরব আমিরাতের আসর ভোলার কথা বললেন অধিনায়ক। নেতিবাচক দিক মাথায় থাকলে একজন খেলোয়াড়ের জন্য সামনে তাকানো কঠিন। তাই সব ভুলে সামনের বিশ্বকাপেই মনোযোগী হতে চান মাহমুদউল্লাহ।

কাল উদ্বোধন হওয়া এবারের অ্যাকাডেমি কাপে দেশজুড়ে মোট ৯৬টি অ্যাকাডেমি অংশ নিচ্ছে। ৫০ ওভারের এই প্রতিযোগিতা বিভাগীয় ও জাতীয় দুই স্তরে হচ্ছে। বিভাগীয় রাউন্ডে ৮ গ্রুপে ৯৬ দল খেলবে। সাত বিভাগ, ঢাকা মেট্রোর চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলগুলো পরবর্তীতে খেলবে জাতীয় রাউন্ডে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত