রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগে রাজধানী থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্বামীবাগের মিতালি স্কুল গলি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের থেকে ল্যাপটপ, পোর্টেবল হার্ডডিস্ক ও বিভিন্ন প্রচারপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
গ্রেপ্তাররা হলো মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (২৯), মো. ওয়ায়েজ কুরুনী (২৭), মো. তাওহীদুল ইসলাম (২৬), মো. গাজী সাখাওয়াত (২৯) ও মো. হাবিবুর রহমান (৩০)।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত ও নাশকতায় উসকানিমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। তারা উন্নয়নের গতিধারাকে নস্যাৎ ও শান্তিশৃঙ্খলা বিঘœসহ সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছিল।’
সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত বিশ্লেষণ ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনকে পুঁজি করে সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের সম্পদ ও জনসাধারণের জানমালের ক্ষতি করে জনমনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছিল তারা। বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বাইরে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং অপপ্রচার চালিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টাও করছিল তারা। এ ছাড়া আন্দোলনকে উসকে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনাও ছিল তাদের। এজন্য তারা দেশের বাইরে বিভিন্ন সংস্থার কাছে কল্পিত এবং বানোয়াট তথ্য পাঠিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। অপপ্রচারের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন নামে ক্লোজড গ্রুপ তৈরি করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন কার্যক্রমকে ভার্চুয়ালি নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে থাকে এ জাতীয় বিভিন্ন কনটেন্ট গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ল্যাপটপে রক্ষিত আছে। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও তাওহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা আছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ারী থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা এসআই রুপক বোস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ বিকেলে র্যাব বাদী হয়ে বিশেষ আইনে একটি মামলা করেছে। সেই মামলার আসামি হিসেবে পাঁচজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।’
