জলবায়ু সম্মেলনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা আছে

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:০৯ পিএম

অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন চিন্তাবিদ ও পরিবেশকর্মী ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এখন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং অনারারি ডিরেক্টর। একই সঙ্গে তিনি পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি এবং বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক। তার লেখা ও সম্পাদনায় ৪০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ২০০৯ সালে দারিদ্র্য বিমোচনে গবেষণা ও বাস্তবভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার এবং একই সালে জাতীয় পরিবেশ পদক পান। মুক্তিযোদ্ধা কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ইউএনএফসিসির (জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত কনভেনশন) আওতায় জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের নেগোসিয়েশন দলের সমন্বয়ক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন। এবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে তিনি অংশ নেন। গ্লাসগো সম্মেলন নিয়ে দেশ রূপান্তরের জন্য তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শারমিনুর নাহার

দেশ রূপান্তর : আপনি প্রায় প্রতিবারই জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন, এবার জলবায়ু সম্মেলনের ইতিবাচক দিকগুলো কী?

খলীকুজ্জমান : আমি ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত প্রতিটি সম্মেলনে বাংলাদেশের নেগোসিয়েশন দলের সমন্বয়ক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছি। এবার ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন ছিল ‘কপ-২৬’। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে প্রথম ধরিত্রী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ইউএনএফসিসি গৃহীত হয়। তাতে শুধু গ্রিন হাউজ গ্যাস কমানোর বিষয়টা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০০৭ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যে সম্মেলন (কপ-১৩) হয়, সেখানে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বিষয়ের সঙ্গে আরও কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়। সেগুলো হলো অভিযোজন, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন। এরপর থেকে প্রতিটি সম্মেলনে এ বিষয়গুলো ঘিরে আলোচনা হচ্ছে এবং নতুন কিছু যুক্ত হয়েছে। ২০১০ সালে কোপেনহেগেন (কপ-১৫) সম্মেলনে প্রত্যাশিত চুক্তি না হলেও একটি ১২ পয়েন্টবিশিষ্ট সমঝোতা (accord) গৃহীত হয়। ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে ওই ১২টি পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ও দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করেছে। কোপেনহেগেনে গৃহীত সমঝোতায় প্রথম শিল্পবিপ্লবের পূর্বের তুলনায় এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবী ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণতায় সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়। প্যারিস চুক্তিতে অবশ্য লক্ষ্য ২ ডিগ্রি থেকে অনেক নিচে এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রি উষ্ণায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এবারের সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য, মূলত ১.৫ ডিগ্রি লক্ষ্যের পক্ষে মতৈক্য লক্ষণীয়। তবে এখনই উষ্ণায়ন ১.১ ডিগ্রিতে পৌঁছে গেছে। কাজেই শতাব্দী শেষে তা ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখা প্রায় অসম্ভব বলে আমার ধারণা। এবারই প্রথম কয়লা ও ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার কমানোর বিষয়টি গৃহীত প্যাক্ট-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বনাঞ্চল ও ভূমির অবনমন ২০৩০ সালের পর আর ঘটতে দেওয়া হবে না এরকম মতও প্রকাশ করা হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে এবং পৃথিবী ক্রমাগত উষ্ণতর হচ্ছে, এর ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাই।

খলীকুজ্জমান : এর ক্ষতিগুলো বা কুফল শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো পৃথিবীর মানুষ প্রত্যক্ষ করছে। উন্নত দেশগুলোতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। মূলত পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও অন্যান্য প্রকৃতির দুর্যোগ আগের থেকে ঘন ঘন এবং অধিক বিধ্বংসীরূপে ঘটছে। বাংলাদেশেও ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা এবং বিশেষ করে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ এবং নদীভাঙন খুবই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কোনো কোনো স্থানে লবণাক্ততা ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে যাচ্ছে। অসংখ্য মানুষ নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে উদ্বাস্তু হচ্ছে। ইতিমধ্যেই লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকটে পড়েছে উপকূলীয় এলাকাসমূহের অসংখ্য মানুষ। এ সংকট বেড়েই চলেছে। উজান থেকে পলিমাটি এসে অনেক নদীর তলা ভরাট হওয়ার ফলে বন্যার প্রকোপ বেড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের জনঘনত্বের কারণে। বাংলাদেশ বিশেষভাবে জলবায়ু ভঙ্গুর একটি দেশ। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ হাজার ২০০ জনের মতো মানুষ বাস করে। উল্লেখ্য, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ভারতে ৪২৪, পাকিস্তানে ২৮০, ভিয়েতনামে ২৯৬, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ এবং রাশিয়ায় মাত্র ৯ জন মানুষ বাস করে। যদি আগামী ৮-১০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো এবং বেশি বেশি গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী উন্নয়নশীল দেশসমূহ বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আরও দ্রুত গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ না কমায় তাহলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো অভিযোজনক্ষম নাও থাকতে পারে।

দেশ রূপান্তর : এত গুরুতর সমস্যা মোকাবিলায় কি কপ-২৬ এ নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি?

খলীকুজ্জমান : হয়েছে আবার হয়নি। প্যারিস চুক্তিকে জাগিয়ে রাখা হয়েছে। প্যারিস চুক্তির সময় গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর যে অঙ্গীকার পৃথিবীর সব দেশ মিলে করেছিল, তার সবকিছু বাস্তবায়িত হলেও এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবী ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতর হতো বলে হিসাব করা হয়েছিল। এবার যেসব অঙ্গীকার সব দেশ মিলে করেছে তার সবকিছু বাস্তবায়িত হলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবী ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি উষ্ণতর হবে। এর ফলে বিশ্বের অনেক দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যাবে, অনেক ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্র সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে। তবে সব দেশ একমত হয়েছে তারা আগামী বছর এবং তার পরের বছরগুলোয় এ বিষয়ে আরও আলোচনা করবে এবং নিঃসরণ আরও কমাতে পারবে। তবে কথা থেকেই যায়, অঙ্গীকারগুলো কি আসলে বাস্তবায়িত হবে? সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অসচ্ছতা রয়ে গেছে। আগামী ৮-১০ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে নিঃসরণ বিজ্ঞান নির্দেশিত পরিমাণে বাস্তবে দ্রুত কমাতে হবে। অন্যথায় জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পদ্ধতি সম্বন্ধে কয়লার ব্যবহার কমানো ও ফসিল ফুয়েলে অদক্ষ ভর্তুকি তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কথার বাস্তব প্রতিফলন কী হতে পারে তা মোটেই পরিষ্কার নয়। এছাড়া বনাঞ্চল ধ্বংস ও ভূমির অবনমন রোধের কথাও বলেছে ১০০-এর অধিক দেশ। তবে এ ক্ষেত্রে কোন দেশ কীভাবে তা বাস্তবায়ন করবে তা বলা হয়নি। তবে এ বিষয়গুলো নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। ধরা যেতে পারে আগামীতে করণীয় আরও পরিষ্কার করা হবে এবং বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়গুলো আলোচনায় আসায় খানিকটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে, তবে কী হতে পারে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আদৌ কোনো অগ্রগতি হবে কি না তা আগামী বা তার পরের কপ থেকে হয়তো জানা যাবে।

দেশ রূপান্তর : নিট-শূন্য (Net-zero) প্রসঙ্গে কিছু বলুন।

খলীকুজ্জমান : নিট-শূন্য প্রসঙ্গে কোনো দেশ বলেছে ২০৫০ সালে সেই অবস্থায় পৌঁছবে, কোনো দেশ বলছে ২০৬০ বা ২০৭০ সালে পৌঁছবে। নিট-শূন্য মানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে (ধরা যাক, এক বছরে) যতটা গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ করা হবে ততটা সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। উদাহরণ ১০০ ইউনিট যদি নিঃসরণ করা হয় তাহলে সেটা বনাঞ্চল, কার্বন ক্যাপচার ইত্যাদি ব্যবস্থায় পৃথিবীতেই ধরে রাখা হবে, বায়ুমন্ডলে যাবে না। উল্লিখিত নিট-শূন্যে পৌঁছার এসব প্রাক্কলিত সময় এখনো অনেক দূরের ব্যাপার। ইন্টার গভর্মেন্টাল প্যানাল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে যে, আমাদের হাতে আর বেশি সময় নেই। বলা হয়েছে, ‘এখন গ্রিন হাউজ গ্যাস যতটা বায়ুমন্ডলে পুঞ্জীভূত আছে তা বিগত দুই মিলিয়ন বছরে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয়ত বলা হয়েছে, ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে পৃথিবী ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতর হয়ে যেতে পারে। তাই এখনই গ্রিন হাউজ নিঃসরণ কমানোর আকাক্সক্ষা দ্রুত বাড়িয়ে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোকে এবং বেশি বেশি গ্রিন হাউজ নিঃসরণকারী বড় বড় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে। অন্যান্য দেশকেও যার যার সক্ষমতা অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে?

খলীকুজ্জমান : বাংলাদেশের গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ অতি সামান্য। আমরা বছরে মাথাপিছু যে পরিমাণ গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ করি তা হচ্ছে এক টনের এক-তৃতীয়াংশের মতো এবং উন্নয়নশীল সব দেশের বার্ষিক গড় মাথাপিছু নিঃসরণের সাত ভাগের এক ভাগ। আর যদি পৃথিবীতে বার্ষিক যত গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ করা হয় তা বিবেচনায় নিই, তাহলে বাংলাদেশের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ। অন্যদিকে বার্ষিক মাথাপিছু নিঃসরণ ভারতে ১ দশমিক ৮ টন, চীনে ৭ দশমিক ৪ টন, যুক্তরাজ্যে ৫ দশমিক ৪ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ দশমিক ২ টন। সুতরাং আমরা তেমন কিছুই নিঃসরণ করি না। তারপরও বাংলাদেশ অঙ্গীকার করেছে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রথাগতভাবে চলতে থাকলে যতটুকু নিঃসরণ করা হতো তা থেকে ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ নিজেরাই কমাবে জ্বালানি, যোগাযোগ ও শিল্প খাতে। আরও ১৫ দশমিক ২ শতাংশ কমাব যদি প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাই। জলবায়ু ভঙ্গুর দেশগুলোর ফোরাম (Climate Vulnerable Countries Forum)-এর বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বাস্তবতা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তিনি গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়ন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের দায়িত্বশীল ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য উন্নত বিশে^র প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশ রূপান্তর : গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পদক্ষেপগুলো কী?

খলীকুজ্জমান : রেলগাড়ি, মোটরগাড়ি এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বিমান বিদ্যুতে চালানো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার কমানো এবং উৎপাদন ও ভোগ প্রক্রিয়ায় গ্রিন হাউজ নিঃসরণধর্মী ব্যবস্থা বর্জন বা দ্রুত হ্রাস করা। অর্থনীতি এবং জীবনযাপন ব্যবস্থা সবুজায়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কয়লার ব্যবহার এখনো ব্যাপকভাবে চলছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, ইউরোপের ও অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশের উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের মাত্র এক শতাংশ কয়লাভিত্তিক, কাজেই বাংলাদেশের এ ক্ষেত্রে কিছু করার নেই। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রিন হাউজ গ্যাস কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু অঙ্গীকার ও দিকনির্দেশনা কপ-২৬ থেকে পাওয়া গেছে। তবে আগামী কপ-এ বা তারপর কী সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকার আসে এবং বাস্তবায়নে কেমন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তার ওপর নির্ভর করবে পৃথিবীর মানুষ ও পৃথিবী ঘুুরে দাঁড়াচ্ছে, না কি ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলবে।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে নতুন কোনো পরিকল্পনা হলো কি?

খলীকুজ্জমান : বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। ২০২০ সালে বাজেটে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (সমপরিমাণ টাকা) এ কাজে বরাদ্দ ছিল। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে ব্যাপক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এগুলো দূর করা জরুরি। আসল কথাটি হচ্ছে আমাদের নিজেদের সম্পদ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় খুবই কম, এজন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা লাগবে। কিন্তু আশার আলো তেমন দেখা যাচ্ছে না। উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক সময় তা রক্ষা করে না। ২০০৯ সালে ১৫তম কপে উন্নত বিশ্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার করে উন্নয়শীল দেশগুলোকে দেবে। কিন্তু এখন ২০২১ সাল, তাদের হিসাবেই দেখা যাচ্ছে তারা এ পর্যন্ত দিয়েছে ৮০ বিলিয়ন ডলার। যদিও অন্যান্য হিসাবে তা অনেক কম। এখন তারা বলছে ২০২৩ সালে অর্থায়নের পরিমাণ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করবে। প্রথম এ ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল ১২ বছর আগে। এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি হলো ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ যে ১২০ বিলিয়ন বিগত দুই বছরে দেওয়া হয়নি তা পুষিয়ে দিতে হবে। এ দাবি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত