এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৫ শতাংশ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৩৮ এএম

গ্রাহকের দোরগোড়ায় ব্যাংক সেবা পৌঁছে দেওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ বিতরণ তুলনামূলক অনেক কম। এ নিয়ে নানা মহল থেকে সমালোচনা শুরু হওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় ঋণ বিতরণ বাড়াতে শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে এ খাতের ঋণ বেড়েছে ২৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

গত জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ১৮৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আলোচিত তিন মাসে ঋণ বেড়েছে ৮১১ কোটি টাকা।

তাছাড়া গত এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় ঋণ বেড়েছে ২৬৮ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ খাতের বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও একটি ব্যাংক। গত মার্চ থেকে সাউথইস্ট ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করলেও গত সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই ব্যাংকটির নাম প্রকাশ করা হয়।

ঋণ বিতরণের দিক দিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় বিতরণ করা ঋণের ৬৪ শতাংশই এই ব্যাংকটির দখলে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক এশিয়ার বিতরণ করা ঋণ এ খাতের মোট ঋণের ১৭ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা দি সিটি ব্যাংকের ঋণ প্রায় ১১ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ১ কোটি ২৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ খাতে নতুন করে ৭ লাখ ৬ হাজার ব্যাংক হিসাব যোগ হয়েছে। 

গত সেপ্টেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ বেড়ে ২২ হাজার ২৬১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় ১৩ হাজার ৪৭০ জন এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। এসব এজেন্টের আউটলেট রয়েছে ১৮ হাজার ৭৭টি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় খোলা হিসাবগুলোর মধ্যে পুরুষ গ্রাহকদের হিসাব ৫২ শতাংশ, নারী গ্রাহকদের হিসাব প্রায় ৪৭ শতাংশ এবং প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের সংখ্যা ১ শতাংশ। মোট হিসাবগুলোর মধ্যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর হিসাব ৮৬ শতাংশ। শহরের গ্রাহকদের হিসাব ১৪ শতাংশ। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, গ্রামের জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংক সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০১৪ সালে প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করে ব্যাংক এশিয়া।

এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকদের বড় একটি অংশ রেমিট্যান্স সেবা গ্রহণ করে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ খাতের গ্রাহকদের ৭ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স বিতরণ করেছে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলো। দ্রুত এই সেবার গ্রাহক বাড়লেও পর্যাপ্ত কমিশন না পাওয়ায় হতাশার মধ্যে রয়েছেন এ খাতের এজেন্টরা। সম্প্রতি ঢাকাসহ ৫টি জেলার এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে দেশ রূপান্তর জানতে পারে এ খাতের এজেন্ট আউটলেটগুলোর মাসিক খরচ গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি। কিন্তু এজেন্টদের কমিশন আয় হচ্ছে মাসে ১০-১২ হাজার টাকা। এ কারণে অনেক এজেন্ট এই সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে।

তাছাড়া দেশে ২৯টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিলেও হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেট চোখে পড়ে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট এজেন্ট আউটলেটের মধ্যে ডাচ-বাংলা ব্যাংকেরই প্রায় ২৮ শতাংশ আউটলেট রয়েছে। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট আউটলেট প্রায় ২৭ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেট ১৪ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত