কানাডায় ঢুকতে পারেননি মুরাদ হাসান

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫৫ এএম

অশালীন ও নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংসদ ডা. মুরাদ হাসান কানাডায় ঢুকতে পারেননি। কানাডার বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এরপর মুরাদ হাসান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই যাওয়ার চেষ্টা করছেন। দেশটির ইমিগ্রেশন অনুমতি না দিলে তাকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুবাই ইমিগ্রেশন পার হতে না পারলে মুরাদ হাসানকে দেশেই  ফিরে আসতে হবে। তবে অন্য কোনো দেশের ভিসা থাকলে সেখানেও তার যাওয়ার সুযোগ থাকবে।’

মুরাদ হাসান এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। সেখানে কানাডা ইমিগ্রেশন ও বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির কর্মকর্তারা তাকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে জানান, বিপুলসংখ্যক কানাডিয়ান দেশটিতে তার প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। একপর্যায়ে মুরাদ হাসানকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের ফ্লাইটে পাঠানো হয়।

মূলত কানাডায় বসবাসরত মুরাদ হাসানের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে তাকে দেশটিতে ঢুকতে না দেওয়ার খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাংলা অনলাইন পত্রিকা ‘নতুন দেশ’। যদিও কানাডার বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি কিংবা ইমিগ্রেশন কর্র্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানায়নি।

বিষয়টি নিয়ে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র কিংবা তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ডা. মুরাদ হাসানের কানাডায় আসা নিয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। মুরাদ হাসান নিজেও আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। তাকে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়ে কানাডার ইমিগ্রেশনও আমাদের এখন পর্যন্ত কিছু জানায়নি। তবে গণমাধ্যমে মুরাদ হাসানের ঢুকতে না দেওয়ার খবর আমাদের নজরেও এসেছে।’

এদিকে গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুরাদ হাসানকে কেন কানাডায় ঢুকতে দেওয়া হলো না, এখন পর্যন্ত আমরা এর কিছুই জানি না। না জেনে এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার মামলা করার অধিকার রয়েছে। এটা তো কোনো বিষয় নয়। আমার কাছেই জিজ্ঞাসা করছেন কেন? আপনি যদি সংক্ষুব্ধ হন, আপনিও মামলা করতে পারবেন।’

গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের (ইকে ৮৫৮৫) একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে কানাডার উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন মুরাদ হাসান।

বিএনপির এক শীর্ষ নেতার মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার মধ্যেই মুরাদ হাসানের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঢাকাই সিনেমার নায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে ফোনালাপের ওই অডিওতে মুরাদ হাসানকে অশ্লীল কথাবার্তা ও নায়িকাকে ধর্ষণের হুমকি দিতে শোনা যায়। এ ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকার।

এরপর ৬ ডিসেম্বর মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে মুরাদ পদত্যাগপত্র জমা দিলে ওই দিন বিকেলেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্র্তৃক গৃহীত হয়েছে।

মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী উপজেলা) আসনের সাংসদ। তার বাবা প্রয়াত মতিউর রহমান তালুকদার জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত