জটিলতা এড়াতে সব সেবা এক স্থান থেকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আশানুরূপ সেবা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। এতে হতাশ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। গতকাল রবিবার নতুন পাঁচ সেবা উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন ৫টি নিয়ে দুই বছরে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালে মিলছে ১৮ সংস্থার ৫৬টি সেবা। নতুন পাঁচ সেবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, পোর্টালে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনলাইনে চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিচ্ছে না। কাজ নিয়ে আমরা একদিকে খুশি থাকলেও হতাশ হওয়ার মতো ব্যাপারও রয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিডা ছাড়াও ১৫টি সরকারি সংস্থা সেবা দেওয়ার জন্য যুক্ত হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখা ও সোনালী ব্যাংকের অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম ছাড়া অন্য কোনো সেবা সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। ছয়টি সংস্থা রয়েছে, তাদের কোনো সেবাই এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, সরকারি-বেসরকারি সব মহলের ইতিবাচক মনোভাব থাকলেই এ ধরনের সেবা উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া যায়। ইজি অব ডুয়িং বিজনেসে ভালো করা যায়।
গতকাল যে পাঁচটি সেবা যুক্ত হয়েছেÑ বিডার তৃতীয় অ্যাডহক আইআরসির সুপারিশ দেওয়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের আয়কর সনদ, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের মাধ্যমে রপ্তানি নিবন্ধন সনদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) মাধ্যমে কান্ট্রি অব অরিজিন প্রদান করা। সিরাজুল বলেন, আগে থেকেই এনবিআরের দুটি সার্ভিস যুক্ত আছে। আজকে আরেকটি সার্ভিস যুক্ত হলো। কিন্তু এনবিআরের সেবা মিলছে না। তবে ব্যর্থতার সঙ্গে সাফল্যের খবরও দেন বিডা চেয়ারম্যান। বলেন, গত বছর এই সময়ে বিডায় গড়ে ৫০টি করে সেবা নেওয়ার আবেদন পড়ত। আজকে এক বছরের মাথায় ১০০টিরও বেশি আবেদন পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিডা থেকে ১৭টি সেবা দেওয়া হয় অনলাইন ওএসএসে। এর অধিকাংশই দিনের আবেদন দিনে পূরণ করা হয়। এর বাইরে দু’চারটি বিষয় রয়েছে যেগুলো বিডার বোর্ড বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এগুলোর ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। বিডার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ওএসএস থেকে যাচ্ছে। এ সময় ওএসএসের কার্যতালিকায় সংস্কার আনার সুপারিশ করেন সিরাজুল ইসলাম।
