স্ত্রী শিশুসন্তানকে গলা কেটে হত্যা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৩৯ এএম

নরসিংদীতে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুসন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেছে ফখরুল ইসলাম (২৯) নামে এক ব্যক্তি। গত রবিবার রাত ২টার দিকে শহরের চিনিশপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদিয়ার সঙ্গীতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার বিকেলে গৃহবধূর বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। স্বামী ফখরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলো গৃহবধূ রেশমী আক্তার (২৬) ও তার দেড় বছরের শিশুসন্তান ফাহিম মাহমুদ সালমান। রেশমী পৌর শহরের দত্তপাড়া এলাকার পারভেজ মিয়ার মেয়ে। ফখরুল মাদকাসক্ত ও বেকার বলে পারিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ২ বছর ৬ মাস আগে পারিবারিকভাবে পৌর শহরের দত্তপাড়া এলাকার রেশমীর ঘোড়াদিয়া সঙ্গীতা এলাকার ফখরুলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন রেশমীর ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। ফখরুল বেকার হওয়ায় তাদের সংসারে কলহ লেগে থাকত।

ফখরুলের বাবা সাইফুল্লাহ বলেন, রবিবার রাত ১২টায় ফখরুল বাইরে থেকে বাসায় আসে। পরে রাত ২টায় ফখরুলের বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনতে পাই। কিছুক্ষণ পরে আমরা রুমে গিয়ে রেশমী ও তার ছেলে সালমানকে বিছানায় গলা কাটা অবস্থায় দেখতে পাই। আমাদের  উপস্থিতি টের পেয়ে ফখরুল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তার বড় ভাই শরীফ ধাওয়া দিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় ব্রাহ্মন্দী এলাকা থেকে তাকে ধরা হয়। পরে তাকে পুলিশ নিয়ে যায়।

রেশমীর বাবা পারভেজ মিয়া বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েটাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। আমরা কষ্ট পাব ভেবে আমার মেয়ে আমাদেরকে কিছুই বলত না। ফখরুল মাদকাসক্ত ছিল। কিন্তু আমরা জানতাম না। এসব তথ্য আমাদের কাছ থেকে গোপন রেখে বিয়ে দিয়েছিল। বিয়ের পরে তাকে রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছিল। পরে তার পরিবার তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। এখন আমি আমার মেয়ে ও নাতি হত্যার বিচার চাই।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, প্রাথমিকভাবে ফখরুল ধারালো চাকু দিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে পারিবারিক কলহের কারণেই তার স্ত্রীকে হত্যা করার কথা জানায়। স্ত্রীকে হত্যার সময় ছেলে কান্নাকাটি করার কারণে তাকেও হত্যা করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে হত্যার সঙ্গে ফখরুল একাই জড়িত না অন্য কেউ সঙ্গে আছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠনো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত