খুলনার বটিয়াঘাটায় ঘরে ঢুকে এক নারীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ওই নারীর বড় বোন ও দুলাভাই। গত রবিবার গভীর রাতে হাটবাড়িয়া খৈয়াতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গতকাল সোমবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত নারীর নাম তিলোত্তমা মণ্ডল পুতুল (৪০)। তিনি বটিয়াঘাটার বিত্তিশালুয়া বয়ারডাঙ্গা গ্রামের প্রয়াত মহেন্দ্র ম-লের মেয়ে। আহত হয়েছেন তিলোত্তমার বড় বোন দীপিকা মিস্ত্রি (৪৫) ও দুলাভাই প্রকাশ মিস্ত্রি (৫৮)।
হতাহতদের স্বজন ও গ্রামবাসী জানায়, নিহত তিলোত্তমা দুই দিন আগে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। রবিবার রাতে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে কেউ একজন এসে দরজায় কড়া নাড়ে। এ সময় তিলোত্তমা দরজা খুলতেই এক দুর্বৃত্ত দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তিলোত্তমাকে বাঁচাতে গিয়ে দায়ের কোপে আহত হন তার বোন ও দুলাভাই। পরে হামলাকারী পালিয়ে যায়। দায়ের কোপে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিলোত্তমা। তার বড় বোন দীপিকা মিস্ত্রি ও দুলাভাই প্রকাশ মিস্ত্রি গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া বটিয়াঘাটা থানার এসআই প্রভাস কুমার জানান, রাত ৩টার দিকে হতাহত তিনজনের ওপর হামলা চালায় এক ব্যক্তি। প্রথমে তিলোত্তমাকে মুখে ও হাতে কুপিয়ে জখম করা হয়। এরপর একই ঘরে থাকা প্রকাশ মিস্ত্রি ও দীপিকা মিস্ত্রিকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্ত। দীপিকা মিস্ত্রির অবস্থা আশঙ্কাজনক। কী কারণে তাদের ওপর এ হামলা হয়েছে তা জানাতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
বটিয়াঘাটা থানার ওসি মো. শাহ জালাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গভীর রাতে কে বা কারা একই পরিবারের সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।’
