ভারতের প্রথম প্রতিরক্ষা প্রধান বিপিন রাওয়াত

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৫৮ এএম

গত ৮ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর নীলগিরি পাহাড়ে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান প্রথম ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএস) বিপিন রাওয়াত। মাতৃসূত্রে তিনি ছিলেন রাজনৈতিক পরিবারের অংশ, পিতৃসূত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অংশ। সেনাবাহিনীতে চার দশক ধরে কাজ করা তুখোড় সামরিকের বর্ণাঢ্য জীবনের গল্প তুলে ধরছেন মুমিতুল মিম্মা

বিপিন রাওয়াত

সরকার চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) পদ গঠনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিন পর, অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯ থেকে প্রথম ত্রি-পরিষেবা প্রধান নিযুক্ত করা হয়। জেনারেল রাওয়াত ছিলেন প্রথম সেনাপ্রধান যিনি শীর্ষ পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

সরকার প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনীর নিয়ম সংশোধন করে অবসর গ্রহণের বয়স ৬২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করে, নিয়োগের পথ প্রশস্ত করে। সিডিএস সামরিক বাহিনী সম্পর্কিত বিষয়ে সরকারের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী এই তিনটি পরিষেবাকে একীভূত করার মূল লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। সিডিএস স্থায়ী চিফ অব স্টাফ কমিটিও (সিওএসসি) হবে।

জেনারেল বিপিন রাওয়াত ২৭তম সেনাপ্রধান (সিওএএস) হিসেবে ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে জেনারেল দলবীর সিং সুহাগের কাছ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন। তামিলনাড়–র নীলগিরি পাহাড়ে মর্মান্তিক কপ্টার দুর্ঘটনা থামিয়ে দেয় আয়ুরেখা। ৬৩ বছর বয়সে বর্ণাঢ্য গোর্খা বাহিনীর এ সেনার জীবনাবসান ঘটে। আইএএফ ও অন্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেনারেল রাওয়াত ও তার দলবল বহনকারী কপ্টারটি আপাতদৃষ্টিতে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে বিধ্বস্ত হয়। তিনি দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

কয়েক পুরুষ সেনাবাহিনীতে কর্মরত বিধায় সেনা হিসেবে অভিজ্ঞতায় একধাপ এগিয়ে ছিলেন তিনি। কর্মজীবনের বড় একটি সময় কাটিয়েছেন কাশ্মীরে। কাশ্মীর সীমান্তে ভারতীয় রাইফেলসের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এর পরপরই তিনি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে (ডিআরসি) সপ্তম অধ্যায় মিশনে একটি বহুজাতিক ব্রিগেডের কমান্ডের দিকে যান। তাকে জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একটি পদাতিক বিভাগের প্রধান নিযুক্ত করা হয়েছিল এবং সফলভাবে তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কর্পস কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

একজন আর্মি কমান্ডার হিসেবে তিনি পশ্চিম ফ্রন্ট বরাবর মরুভূমি খাতে কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। উল্লেখ করা বাহুল্য, আলোচনা-সমালোচনা সত্ত্বেও সব ক্ষেত্রেই নিজের স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি।

সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় জেনারেল রাওয়াত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তার একটি হলো প্রয়োজনে নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি (দেরাদুন) ও জুনিয়র কমান্ড উইংয়ে জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সামরিক অপারেশন অধিদপ্তরের জেনারেল স্টাফ অফিসার, কর্নেল এবং পরে সামরিক সচিব শাখায় উপ-সামরিক সচিব, ইস্টার্ন থিয়েটারের মেজর জেনারেল স্টাফ ছিলেন। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল রাওয়াত।

তার পুরো সেনাবাহিনীতে ৪২ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রদর্শিত বিশিষ্ট পরিষেবা এবং বীরত্বের জন্য জেনারেল বিপিন রাওয়াতকে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, দু’বার তাকে চিফ অফ আর্মি স্টাফ প্রশংসার পাশাপাশি সেনা কমান্ডারের প্রশংসাও দেওয়া হয়েছে। কঙ্গোতে জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করার সময় তাকে দুবার ফোর্স কমান্ডারের প্রশংসা প্রদান করা হয়।

বেড়ে ওঠা

জেনারেল রাওয়াত ১৯৫৮ সালের ১৬ মার্চ ভারতের উত্তরাখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা লক্ষ্মণ সিং রাওয়াত পাউরি গাড়োয়াল জেলার সাইঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বাবা ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল, আর মা ছিলেন ভারতীয় রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে। রাওয়াতের পরিবার কয়েক প্রজন্ম সেনাবাহিনীতে কর্মরত। সেই সূত্র ধরে সেনাবাহিনীতে প্রবেশ ঘটে তার। সামরিক প্রশিক্ষণের সময় জেনারেল রাওয়াত ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ও ভারতীয় মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ‘সোর্ড অব অনার’ পুরস্কার পান। ১৯৭৮ সালে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। এরপর সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্রোহবিরোধী অভিযানে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন তিনি। বেশিরভাগ সময় ভারতের অশান্ত অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন। অস্থিতিশীল অঞ্চলে দায়িত্বরত হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি বড় অংশই কাটিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (এনডিএ) ও ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমির (আইএমএ) সাবেক ছাত্র রাওয়াত ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ১১ গোর্খা রাইফেলসের পঞ্চম ব্যাটালিয়নে নিযুক্ত হন। তার বাবাও একই ইউনিটে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত হয়েছিলেন। প্রথম সিডিএস বিদ্রোহ বিরোধী যুদ্ধের একজন প্রবীণ সেনা এবং উত্তর ও পূর্ব কমান্ডসহ ভারতের সবচেয়ে কঠিন অঞ্চলে কাজ করেছেন তিনি।

৪৩ বছর চাকরি করার সময় রাওয়াত ব্রিগেড কমান্ডার, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (জিওসি-সি) সাউদার্ন কমান্ড, মিলিটারি অপারেশন ডিরেক্টরেট জেনারেল স্টাফ অফিসার গ্রেড ২, কর্নেল সামরিক সচিব এবং সামরিক সচিবের শাখায় ডেপুটি মিলিটারি সেক্রেটারি এবং জুনিয়র কমান্ড উইং-এর সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীরও অংশ ছিলেন এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে একটি বহুজাতিক ব্রিগেডের কমান্ড করেছেন।

রাওয়াত গোর্খা ব্রিগেডের ভাইস-চিফ অব আর্মি স্টাফ হয়েছিলেন। তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গিবাদ হ্রাস করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তার কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ২০১৫ সালে মিয়ানমারে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় সৈন্যদের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া। যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী জঙ্গিদের ওপর সফল আক্রমণ পরিচালনা করে। রাওয়াতের তত্ত্বাবধানে ডিমাপুর ভিত্তিক তৃতীয় কোরের অপারেশন কমান্ড থেকে এ মিশনটি পরিচালিত হয়েছিল।

ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ (ওয়েলিংটন) এবং কমান্ড অ্যান্ড জেনারেল স্টাফ কোর্স, ফোর্ট লিভেনওয়ার্থ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)-এর স্নাতক ছিলেন তিনি। জেনারেল রাওয়াত উচ্চতর কমান্ড কোর্সে পড়াশোনা করেছেন এবং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের স্নাতক ছিলেন। অ্যাকাডেমিক পড়াশুনায় বিশেষভাবে আগ্রহ থাকায় জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা প্রকাশ করেছেন তিনি। পরে যা বিভিন্ন জার্নাল ও প্রকাশনায় ঠাঁই পেয়েছে। ম্যানেজমেন্ট ও কম্পিউটার স্টাডিজে দুটি পৃথক ডিপ্লোমাও আছে তার ঝুলিতে। মিরাটের চৌধুরী চরণ সিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মিলিটারি মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ নিয়ে গবেষণার জন্য জেনারেলকে ‘ডক্টরেট অফ ফিলোসফি’ (পিএইচডি) প্রদান করা হয়।

সেনাবাহিনীতে গোর্খাদের ইতিহাস

সীমান্ত বিরোধের জের ধরে ও বিদ্রোহীদের কারণে নেপালের গোর্খা রাজ্য ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে অ্যাংলো নেপালি যুদ্ধ হয়েছিল। ১৮১৬ সালে সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি হয়। গোর্খা

ডেভিড অকটারলোনি ও ব্রিটিশ রাজনৈতিক এজেন্ট উইলিয়াম ফ্রেজার গোর্খাদের ভেতরে সম্ভাবনা দেখেছিলেন। এর পর থেকে যুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা গোর্খাদের নিয়মিত ব্যবহার করত। তারা ছিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রতি খুবই অনুগত। ধীরে ধীরে গোর্খাদের প্রতি আস্থা জন্মে ফ্রেজারের। ১৮১৫ সালে এপ্রিল মাসে তিনি তাদের নিয়ে একটি ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রস্তাব দেন। লেফটেন্যান্ট রসের অধীনে একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করে এর নাম দেওয়া হয় নাসিরি রেজিমেন্ট। এই ব্যাটালিয়ন খুব পরিশ্রমী, ফলে পরে এই রেজিমেন্ট ১ম কিং জর্জের নিজস্ব গোর্খা রাইফেলসে পরিণত হয়।

১৮১৫ সালে প্রায় ৫ হাজার পুরুষ ব্রিটিশ চাকরিতে প্রবেশ করে। এদের বেশিরভাগ যদিও গোর্খা ছিল না। পাহাড়ি অন্যান্য জনগোষ্ঠী থেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া দলগুলো অবশেষে গোর্খা শব্দের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়। এখানেই শেষ নয়, তারা হয়ে ওঠে ব্রিটিশ ভারতীয় বাহিনীর মেরুদণ্ড। পরে সেনাবাহিনীতে গোর্খা ব্যাটালিয়ন আলাদাভাবে গুরুত্ব পাওয়া শুরু করে। এসব সৈন্য ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চুক্তির অধীনে দায়িত্ব পালন করত। অবাক করা হলেও সত্য যে, গোর্খাদের সবাই নেপালে জন্মগ্রহণ করলেও ১৮৫৭ সালে ভারতে সিপাহী বিদ্রোহের সময় গোর্খারা ব্রিটিশদের পক্ষে যুদ্ধ করে। তখন থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর অংশ হয়ে ওঠে গোর্খারা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হয়ে অংশ নেওয়া গোর্খাদের ভারতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকেই উপমহাদেশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংঘাত থেকে তাদের সবসময় দূরে রাখা হয়েছে। সীমান্ত ও পাহাড়ে তাদের নিযুক্ত করা হয়েছ। কারণ অস্থিতিশীল জায়গা শান্ত করার ক্ষেত্রে তাদের জুড়ি মেলা ভার।

১৯৪৭ পরবর্তী সময়ে ভারত ও ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ভেতরে সদস্য ভাগাভাগির সময়ে দশটি গোর্খা রেজিমেন্ট ছিল মূল আলোচনার বিষয়। ব্রিটিশরা গোর্খাদের পরিশ্রম ও যুদ্ধ কৌশল খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখত বলে গোর্খাদের চারটি রেজিমেন্ট ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অধীনে চলে যায়, আর বাকি ছয়টি রেজিমেন্ট সদ্য স্বাধীন ভারতের সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়। কিন্তু পরাজয়ের হতাশা তাদের গ্রাস করে বসলে ব্রিটিশ অফিসারদের অধীনে কাজ করতে চাননি বেশিরভাগ গোর্খা। নিজের ইচ্ছেমতো তারা সেনাবাহিনী বেছে নিতে পেরেছিলেন। সেই থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে গোর্খা বাহিনী। পরে ভারতীয় নাগরিকত্বও পান তারা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সবচেয়ে দায়িত্বশীল সেনা হিসেবে দেখা হয় তাদের। দূরবর্তী নিশানা তাক করায় তারা বিশেষভাবে খ্যাত। তাদের বিশেষ অস্ত্র কুকরি। সেনাবাহিনীতে গোর্খা ব্যাটালিয়নে কাজ করা সব র‌্যাংকের সেনা এই কুকরি বহন করে থাকে। কয়েক পুরুষ ধরে রক্তে মিশে থাকা সেনাবাহিনীর ইতিহাস মিশে ছিল বলেই বোধ হয় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে বিপিন রাওয়াতকেই ভারতের তিন বাহিনীর প্রথম কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা বা সিডিএস হিসেবে নিয়োগ করা হয়। 

আলোচনা-সমালোচনা

২০১৬ সালে ভারতের ২৭তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে পদোন্নতির এই বিষয়টি তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। দেশীয় বিতর্ক দেশের সীমানা ছাড়ায়। পরের বছর তার কাজ একটি আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। তার সঙ্গে সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে ভারত। ভারত শাসিত কাশ্মীরে একজন বিক্ষোভকারীকে সেনাবাহিনীর জিপের সামনে বেঁধে ঘুরিয়েছিল এক সেনা অফিসার। জেনারেল বিপিন রাওয়াত এ কাজের জন্য সেই বিতর্কিত সেনা অফিসারকে পদক দিয়ে পুরস্কৃত করেন। কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকে নোংরা যুদ্ধ বলে অভিহিত করেন। সেই যুদ্ধে ওই অফিসারের নির্মম কাজটিকে ‘উদ্ভাবন’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন তিনি। কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের পাথরে সেনাদের আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘পাথরের বদলে ওরা যদি গুলি ছুড়ত, তাতে আমাদের পক্ষে মোকাবিলা করা অনেক সহজ হতো।’

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসর নেওয়ার কথা ছিল রাওয়াতের। তার এক দিন আগে দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক পদে যুক্ত করে মোদি সরকার। ফলে তার সঙ্গে সরকারের শীর্ষস্থানীয় পদের লোকদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বারবার আলোচনায় এসেছে। তবে বরাবরের মতোই তিনি এসব অভিযোগকে অস্বীকার করে এসেছেন।

আসামের রাজনৈতিক দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট পার্টির উত্থানকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছিলেন তিনি। সেনাপ্রধান হিসেবে তার রাজনৈতিক সে বক্তব্যকে খুব সহজভাবে নেয়নি কেউ। ভারতীয় সংখ্যালঘু নেতারা তাকে বিজেপির তোতাপাখি হিসেবে দেখতেন।

সেনাবিধি সংশোধন করে বিপিন রাওয়াতকেই প্রথমবারের মতো ভারতের তিন বাহিনীর ‘কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা’র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সবার ধারণা ছিল ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হতে পারেন তিনি। জীবদ্দশায় সে সুযোগ পেলেন না রাওয়াত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত