বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অক্সিজেন সঞ্চালন বক্সে লাগা আগুনে হাসপাতালের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে শেবাচিম কর্র্তৃপক্ষ। যদিও ঘটনার সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রনদী দাস নামের ওই রোগীর স্বজনা বলছেন, ভয় পেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
রনদী দাস বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা। গত সোমবার তাকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল অগ্নিকাণ্ডের সময় মৃত্যু হয় তার।
হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বলছে, আগুন বড় কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। যে রোগীর মৃত্যু হয়েছে তার অবস্থা এমনিতেই আশঙ্কাজনক ছিল।
শেবাচিম হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক সেলিমা আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করেই হাসপাতালের পশ্চিম পাশের দ্বিতল ভবনে সিসিইউতে ৪ নম্বর বেডের ওপরে অক্সিজেন সঞ্চালন বক্সে বিকট শব্দে আগুন লেগে যায়। এতে সিসিইউসহ হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তারা ঘটনাস্থলে আসার আগেই হাসপাতালের স্টাফরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সে সময় সিসিইউর রোগীদের পার্শ্ববর্তী পোস্ট সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণের অন্তত বিশ মিনিট পরে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তিনি আগে থেকেই মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। এটা আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, অগ্নিকাণ্ডের সময় আতঙ্কিত হয়ে সিসিইউর ১৪ নম্বর বেডের রোগী রনদীর মৃত্যু হয়েছে।
তবে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ভিজিটে তখন ছিলাম। হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। রোগীদের হুড়োহুড়ির সময়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তা আতঙ্কে বলে মনে হয় না। ওই রোগী আগেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন।’
