মাগুরা সদর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সড়কের ওপর বাস উল্টে দুজন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা এক স্বজনের জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রাইভেট কার-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে পুলিশের এক পরিদর্শক এবং বাগেরহাট ও ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল আরোহী দুই বিকাশকর্মী নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন মাগুরা সদরের গোলাম নবী মোল্যা (৬৫) ও বাবু মিয়া (৪৫), নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজারের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সফিউল্লাহ জুয়েল (৪৫), বাগেরহাট সদরের সুমন শেখ (৩০) ও ঝিনাইদহের হরিণাকু-ুর রাসেল হোসাইন (২৫)। মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার লিটন শেখ জানান, শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির বাসটি গতকাল বেলা ১১টার দিকে সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের পাজাখোলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে অন্তত ২৭ জন আহত হন। তাদের মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম নবী ও বাবু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। তাদের দুজনেরই বাড়ি উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে। গোলাম নবী শহরের পারলা এলাকায় বড় ছেলের শ্বশুরের জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন বলে স্বজনরা জানান।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডা. অমর প্রসাদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই গোলাম নবী ও বাবু মিয়ার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বাকি ১০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সদর থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। বাসের চালক পলাতক। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রাইভেট কার ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ থানায় কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সফিউল্লাহ জুয়েল নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পুরিন্দা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) জোবায়ের হোসেন জানান, উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কবি আজিজুর রহমানের ছেলে সফিউল্লাহ জুয়েল কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। জুয়েলের স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্থানীয়রা কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করলেও চালক পালিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
বাগেরহাটে গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের দশানী ট্রাফিক মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুমন শহরের মুণিগঞ্জ এলাকার সিদ্দিক শেখের ছেলে এবং মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের কর্মী ছিলেন।
সদর মডেল থানার ওসি আজিজুল ইসলাম জানান, খুলনা থেকে পিরোজপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক দশানী এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী সুমন শেখ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এছাড়া ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার শিতলী মসজিদ এলাকায় গতকাল সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত লাটাহাম্বার (মাটি টানার গাড়ি) মুখোমুখি সংঘর্ষে রাসেল হোসাইন নামে এক বিকাশকর্মী নিহত ও রমজান আলী (৩২) নামে আরেক বিকাশকর্মী আহত হন। রাসেল ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কুলচারা গ্রামের জিরে মন্ডলের ছেলে।
ঝিনাইদহ বিকাশ এজেন্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিপ্লব হোসেন জানান, রাসেল ও রমজান হরিণাকুন্ডু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিকাশের টাকা লেনদেন শেষে মোটরসাইকেলে ঝিনাইদহ শহরে ফিরছিলেন। পথে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
হরিণাকুন্ডু থানার ওসি মো. আবদুর রহিম মোল্লা জানান, লাশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। একই হাসপাতালে রমজান আলীকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
