শ্বশুর-শাশুড়িকে খুঁজছে পুলিশ, স্বামী রিমান্ডে

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:১০ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের ছাত্রী এলমা চৌধুরী মেঘলাকে (২৬) হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তার স্বামী ইফতেখার আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। একই মামলার অন্য দুই আসামি মেঘলার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তারের জন্য গতকাল বুধবার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এদিকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মেঘলা ‘হত্যায়’ জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মেঘলার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। মেঘলার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী তার শরীরের ৯ জায়গায় আঘাতের জখম পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ ( ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে মেঘলার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এরপর স্বজনরা লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ঢাকার ধামরাইয়ের পাটানটুলায় দাফন করেন।

মর্গের চিকিৎসকরা জানান, মৃতদেহ থেকে ভিসেরাসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

এলমা চৌধুরী মেঘলাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে জড়িতদের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই মানববন্ধন হয়। এতে অংশ নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। মানববন্ধনে মেঘলার বিভাগের শিক্ষক ছাড়াও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শামিমা বানু, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল বাছির, এ কে এম খাদেমুল হক, আশা ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং মেঘলার সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন। মেঘলা ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের ছাত্রী। তিনি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

মেঘলার মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন বনানী থানার এসআই গোলসান আরা বানু। তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মৃতদেহের ওপরের ঠোঁটে কালচে জখম, নাকে আঘাতের চিহ্ন ও কালচে শিরা জখম পাওয়া গেছে। ঘাড়ে লম্বালম্বি কালচে জখম, গলার উপরিভাগে,  থুঁতনিতে কালচে জখম, পিঠের ডান পাশে কালচে জখম,  রক্ত জমাট ও বাম পায়ের বুড়ো আঙুলে জখম দেখা গেছে। এ ছাড়া দুই পায়ের হাঁটুর নিচে কালচে জখমের চিহ্ন আছে। ডান ও বাম হাতের আঙুলে কাটা-ছেঁড়া জখম পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ওই বাসার সিলিংফ্যানের সঙ্গে বাঁধা একটি ওড়নাও আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে মেঘলার মৃতদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

বনানী থানার ওসি নূরে আযম মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেঘলার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বাবা যে অভিযোগে মামলা করেছেন, আমরাও সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি। ইতিমধ্যে মেঘলার স্বামী ইফতেখারকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। বাকি দুই আসামি এলমার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছি। আশা করছি, তদন্তের মাধ্যমেই মেঘলার মৃত্যুরহস্য উদঘাটিত হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত