স্বাধীনতার ৫০ বছরে জাতীয় উন্নয়ন ও এনজিও কার্যক্রম

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:২৮ পিএম

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। শুধু শহর-নগরই নয়, গ্রামগুলোও এখন বদলে গেছে। এক সময় অজপাড়া গাঁ বলতে যা বোঝাত, তা এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রত্যন্ত, দুর্গম এলাকার গ্রামও এখন পাকা সড়ক দিয়ে সংযুক্ত হয়েছে শহরের সঙ্গে। আগে যেখানে হাঁটা কিংবা নৌকা ছাড়া কোথাও যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না এখন সেখানে যন্ত্রচালিত বাহনে চড়ে সহজেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া যায়। যে গ্রামে প্রয়োজনীয় তেলের অভাবে সব ঘরে কুপি-লণ্ঠনও জ্বলত না, এখন সেখানে হয় পল্লীবিদ্যুৎ নয়তো সৌর বিদ্যুতের আলো ঝলমল করে। যে গ্রামে ডাকে চিঠি, টেলিগ্রাম, মানিঅর্ডার পৌঁছাতে অনেক দিন লেগে যেত সেই গ্রামেও আছে এখন মোবাইল ফোনের কাভারেজ, বিকাশের মাধ্যমে মুহূর্তেই প্রিয়জনের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার সুযোগ। গ্রামে এখন ঘরে ঘরে টিভি। রয়েছে ডিশ লাইনের সংযোগ। এখন বেশিরভাগ গ্রামীণ সড়কই পিচঢালা। কাঁচা বা মাটির ঘর তেমন চোখে পড়ে না। অধিকাংশ বাড়ি পাকা ও আধাপাকা।

প্রযুক্তির দিক দিয়েও পিছিয়ে নেই। গ্রামের মানুষ এখন ইন্টারনেট ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বড় গ্রাহক। কিশোর-কিশোরীদের একটা বড় অংশ এখন নিয়মিত ফেইসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার করে। ফেইসবুকে নিজের মতামত পোস্ট করে চমকে দেয়। বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে মেসেঞ্জার, হোয়াটস-অ্যাপ, ভাইবারে কথা বলে।

গ্রাম মানেই এখন আর কৃষিকাজ নয়। গ্রামীণ জনগণের মধ্যে এখন কৃষির পাশাপাশি ছোট ছোট শিল্প স্থাপনের প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি গ্রামেই হাঁস-মুরগির খামার, দুগ্ধ উৎপাদনকারী ডেইরি ফার্ম, মৎস্য চাষ প্রকল্প চালু হয়েছে। এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন গ্রামের অনেক নারী-পুরুষ। স্বল্পসুদে মিলছে ঋণ। এখন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও বিভিন্ন কাজ করছেন। এতে পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। প্রত্যন্ত গ্রামের একটি মুদি দোকানে গেলেই এখন পরিবর্তনটা চোখে পড়ে। সেখানে শুধু চাল, ডাল আর কেরোসিন তেলই নয়, বিক্রি হয় শ্যাম্পু, সুগন্ধি সাবানসহ প্রসাধন সামগ্রীও। গ্রামের মানুষ এখন আর আম ডাল, কাঠকয়লা দিয়ে দাঁত মাজে না, টুথপেস্ট ব্রাশ দিয়ে কিংবা নিদেনপক্ষে টুথ পাউডার ব্যবহার করে। চিপস্, কোল্ড ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস ফ্রুট ড্রিংকস এমনকি মিনারেল ওয়াটারও পাওয়া যায় গ্রামের বাজারের দোকানে। বিভিন্ন বাড়িতে রয়েছে মোটরসাইকেল। মেয়েরাও অনেক গ্রামে সাইকেল চালিয়ে স্কুল-কলেজে যায়। মানব উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে আমাদের অগ্রগতি চমকপ্রদ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমারের চেয়ে এমন প্রায় সব সূচকেই এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই যে পরিবর্তন, এই পরিবর্তনে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা এনজিওর একটা বড় ভূমিকা আছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজ দিয়ে বাংলাদেশে এনজিও কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। এরপর সমাজের চাহিদা অনুযায়ী যুক্ত হতে থাকে নানা কর্মসূচি। তারমধ্যে রয়েছে জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনসাধারণের বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা, নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিভিন্ন উদ্ভাবনী কর্মসূচি গ্রহণ করা, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, ডায়রিয়াজনিত শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, সমাজে বিদ্যমান নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করা, দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করা, খাস জমিতে প্রকৃত ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, বস্তিবাসীর উন্নয়ন ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির লক্ষ্যে কাজ করা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নির্যাতন বন্ধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যৌন হয়রানি বন্ধ, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পরিবেশের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলাসহ নানা উদ্যোগে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

গত পাঁচ দশকে এনজিও কার্যক্রম জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রামীণ উদ্যোগগুলোকে টেকসই করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে। এরমধ্যে জাতীয় জীবনে নারী-পুরুষের সমঅংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে অবদান রাখা অন্যতম। সাধারণ মানুষ তথা সুবিধাবঞ্চিতদের ক্ষমতা কাঠামোর অংশীদার অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দরিদ্র মানুষের অংশগ্রহণ, সব খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিকে সামনে নিয়ে আসা, অধিকারভিত্তিক কর্মকৌশল যার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে একথা জানানো যে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবা পাওয়া তাদের অধিকারএ ধরনের নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টি ও সার্বিক উন্নয়নে এনজিওগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের কাজের ধরন ও বিস্তৃতি বাড়তে থাকে সময়ের প্রয়োজনে। এনজিওগুলো মানুষের মধ্যে যে আত্মবিকাশের ক্ষমতা আছে সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। মানুষ যেন নিজেই নিজের অবস্থা পরিবর্তন করতে পারেসে ব্যাপারে সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। তারা কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী/লোকালয়ের মানুষদের কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী তারা কাজ করে থাকে। তারা যেমন ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক, যেমনচর/উপকূলীয়/পার্বত্য এলাকাকেন্দ্রিক, ঠিক তেমনি বিশেষ জনগোষ্ঠীকে নিয়েও কাজ করে, যেমনপ্রতিবন্ধী, পথশিশু, হিজড়া, বেদে, যৌনকর্মী, দলিত, এসিড সন্ত্রাসের শিকার নারী। দারিদ্র্য থেকে রক্ষা পেতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী-পুরুষরা আশ্রয় নেন এনজিওগুলোর কাছে। বাংলাদেশের এনজিও খাত সেই ভরসার জায়গাটা তৈরি করতে পেরেছে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এনজিও খাত একটা বড় অবদান রেখে চলেছে। সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়া, কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন, প্রতিনিয়ত তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টি ও এর যথাযথ ব্যবহারে এনজিওগুলো উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে চলেছে। 

বাংলাদেশের এ যাবৎকালের সামাজিক খাতের উন্নয়নে এনজিওর ভূমিকা নিয়ে যারা প্রণিধানযোগ্য পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ তাদের মধ্যে অন্যতম। অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ মনে করেন, যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের জন্য প্রশংসাসূচক ‘উন্নয়ন ধাঁধা’ পরিচয় এনে দিয়েছে। তার একটি হচ্ছে, কম খরচে সমাধান (Low-cost solution) ও অন্যটি কার্যকর সামাজিক উদ্যোগ (Social mobilization)। প্রথমটি কম খরচে ডায়রিয়া ও কলেরার মতো মারণব্যাধি রোধে ওর‌্যাল স্যালাইন তৈরির কাজ, আর দ্বিতীয়টি সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান সমাজে ক্রমবর্ধিষ্ণু সচেতনতা সৃষ্টি। একদিকে এনজিওর উপস্থিতি ও অন্যদিকে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নবধারামূলক চিন্তা-চেতনাসমৃদ্ধ এসব কর্মসূচির অনুকরণীয় বিস্তারে (Scaling-up) সাহায্য করে লাখ লাখ শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছে। বাংলাদেশে শিশুমৃত্যু হারের নিম্নমুখী প্রশংসনীয় প্রবণতার মূলে সেই ওর‌্যাল স্যালাইন ম্যাজিক। তা ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির দ্রুত বিস্তার ও নারীর মধ্যে সামাজিক সংযোগ ও গতিশীলতাও এ ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। এমনি করে, অনেকটা নীরবে ও নিভৃতে, এমনকি দৃষ্টির অগোচরে এনজিও খাতের মাধ্যমে একটি সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা অন্যান্য উন্নয়ন-কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের কাজ সহজতর করে তুলেছে।

তবে এনজিও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের দেশে অনেক সমালোচনা আছে, বিশেষত ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে। বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি মহাজনদের মতো শোষণমূলক, যা দরিদ্রকে আরও দরিদ্র করে রাখার জন্য মোক্ষম একটি অস্ত্র বৈ কিছু নয়। এনজিওর ঋণগ্রহীতারা আধুনিক ‘উপেন’, যারা ঋণ নিতে জমি বন্ধক দেয় না সত্যি, তবে নিশ্চিত যে তারা নিঃশেষিত হয়। এনজিওর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় তির্যক সমালোচনা সামাজিক আন্দোলন ঘিরে, যথা নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, মেয়েদের শিক্ষা, বাল্যবিবাহ রোধ ইত্যাদি। প্রথম সমালোচনায় আদাজল খেয়ে আকণ্ঠ নিমজ্জিত এ দেশের প্রগতিশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল উভয় গোষ্ঠী আর দ্বিতীয় ‘জেহাদে’ জড়িত শুধু প্রতিক্রিয়াশীলরা। এ ছাড়া এনজিদের মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নেই, তারা রাজনীতি করে, সংস্থায় গণতন্ত্রের চর্চা নেই, কর্মীদের অনেক কম পারিশ্রমিক দিয়ে অনেক বেশি খাটিয়ে নেয়, এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা ও কর্মকর্তারা সীমাহীন বিলাসী জীবনযাপন করেন, দুর্নীতি করেন ইত্যাদি নানা অভিযোগ আছে। এসব ঢালাও অভিযোগে অতিরঞ্জন আছে ঠিক, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্যতাও আছে। তবে বাংলাদেশের অন্যসব প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে তুলনা করলে এনজিওদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ‘সামান্য অনিয়ম’ হিসেবেই বিবেচিত হবে। অর্থপ্রদানকারী সংস্থা, এনজিওবিষয়ক ব্যুরো, স্থানীয় প্রশাসনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এখন এনজিওগুলোকে কাজ করতে হয়। এখন তাদের পক্ষে বড় ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ খুব কম।

বর্তমানে এনজিওগুলো তহবিল সংকটে ধুঁকছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক কারণে অগ্রাধিকার বদল হওয়ায় এবং বাংলাদেশের ‘উন্নয়নমুখী অভিযাত্রা’-র কারণে দাতাসংস্থাগুলো বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি তহবিল থেকে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে এনজিওদের কাজে লাগানো যেতে পারে। কারণ এনজিওগুলোতে রয়েছে দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীবাহিনী। যেখানে সরকারের প্রশাসনযন্ত্র পৌঁছতে পারে না, সেখানেও রয়েছে এনজিওদের নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্ককে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারলে আগামী দিনের বাংলাদেশকে খুব সহজেই বদলে দেওয়া সম্ভব। এজন্য সরকার ও এনজিওর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, একে অপরকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে।

ঈশ্বর যেমন ভদ্রপল্লীতে বাস করেন বলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ঋণসুবিধাও তেমনি ‘ভদ্র’-দের জন্য সুরক্ষিত। তথাকথিত ‘অভদ্র’ ও দরিদ্রদের জন্য এনজিওর দ্বার খোলা রাখলে আখেরে সরকার তথা সমাজই লাভবান হবে। অন্য একটা কারণেও এনজিওর টিকে থাকা প্রয়োজন। উদীয়মান শিক্ষিত বেকারত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, জঙ্গি চেতনার বিস্তৃতি ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে এনজিওগুলোকে সম্পৃক্ত করে সরকার তার ইপ্সিত সামাজিক উন্নয়ন তথা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।

লেখক লেখক ও কলামনিস্ট

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত