ব্লিংকেনকে ফোনে আবদুল মোমেন

নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি দেশবাসী গ্রহণ করেনি

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:০৪ এএম

র‌্যাব এবং বাহিনীটির সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বাংলাদেশের জনগণ গ্রহণ করেনি বলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় অ্যান্টনি ব্লিংকেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেলিফোন করলে এসব কথা বলেন তিনি।

আবদুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনারা এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যে সিদ্ধান্ত আমাদের দেশবাসী গ্রহণ করেনি। গ্রহণ করেনি এজন্য যে, আপনাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক প্রায় ৫০ বছরের, ভেরি ট্রাস্টেড ফ্রেন্ডশিপ।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনায় ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফোনালাপের বিষয় তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্লিংকেন অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ফোনালাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে আলোচনায় ‘গুরুত্ব দিয়ে’ বাংলাদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ‘আগে জানানোর’ জন্য ব্লিংকেনের প্রতি আহ্বানও জানান। এ সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিক সংলাপ এবং আগামী বসন্তে (মার্চ-মে) ওয়াশিংটনে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ যেকোনো বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে থাকে বলে টেলিফোনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি- স্বাভাবিকভাবে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, আপনারা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমাদের জানাবেন, আগেভাগে জানাবেন। এ ব্যাপারে আমরা পছন্দ করি।’

টেলিফোন আলাপে সন্ত্রাসবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরার বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানানোর বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের যেসব বৈশ্বিক উদ্যোগ, লক্ষ্যÑ এ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে সেগুলো পালন করছে। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর বাংলাদেশে একটিও সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি, র‌্যাবের জন্য। এরা দুর্নীতিপরায়ণ না। দুর্নীতিপরায়ণ না বলেই বাংলাদেশের জনগণের এদের প্রতি আস্থা আছে।’

র‌্যাবের প্রশংসা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা কোনো প্রয়োজনীয় ঘটনায় র‌্যাব নিয়োগ চায়। কোনো বিষয়ে অন্যান্য ফোর্স নিয়োগ করলে তখন তারা বলে র‌্যাব হলে সব ঠিক। এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে আপনারা নিষেধাজ্ঞা দিলেন, এটা আমাদের দেশবাসী পছন্দ করেনি।’

দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোন আলাপে র‌্যাব ও তার সাবেক কর্মকর্তাদের ওপর ‘নিষেধাজ্ঞা’ মূল বিষয় হলেও তা তুলে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেননি বলে জানান এ কে আবদুল মোমেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘স্যাংশন তুলবেন কি না সেটা আমি ফোনে বলিনি। উনিও বলেননি। উনি বলেছেন, আমরা আলোচনা করব, একাধিক ডায়ালগ করব। বলছেন, আগামী স্প্রিংয়ে (বসন্তকালে) ওয়াশিংটনে আলোচনা করব।’

ফোনালাপের কিছু অংশ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “উনি বললেন যে, এমনি আমরা আলোচনা করব। আলোচনার দরজা খোলা। আমি বললাম দেখেন এইটা আপনার স্মরণ রাখা উচিত আপনারা যে অভিযোগ করেছেন, এরাই মানবাধিকার রক্ষা করে। আর মিসিং হয়েছে বলে এদের দায়ী করেছেন। আপনার দেশে তো প্রতি বছর ছয় লাখ লোক মিসিং হয়। আর আমার এখানে কয়জন লোক হয়! আপনার দেশে তো হাজারখানেক লোক আপনার পুলিশ মেরে ফেলে। হ্যাঁ, আমাদের দেশে যদি মারে, তাকে বলে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং, আর আপনার দেশে মারলে বলে ‘ইন দ্য লাইন অব ডিউটি’।”

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনি যেটা বলেছেন, এবারের যে নিষেধাজ্ঞা হয়েছে এটা অনেকটা হয়েছে কংগ্রেস ল মেকারের কারণে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জলবায়ু, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ কাজ করবে বলে ফোনালাপে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত