আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আয়োজন করছে পাকিস্তান। দীর্ঘ নয় বছর পর বাংলাদেশের মন্ত্রিপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল অধিবেশনে যোগ দিতে পাকিস্তান যাচ্ছে। আগামীকাল রবিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং আজ শনিবার পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বৈঠকে যোগ দেবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শাহরিয়ার আলম জানান, কাল মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। আজ সিনিয়র অফিশিয়াল বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র সচিব।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, গতকাল ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্র সচিব এবং আজ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাকিস্তান যাবেন। এই সফরে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠকের সূচি নেই। অনির্ধারিত কোনো আলোচনা হলেও হতে পারে। মূলত আফগানিস্তান ইস্যুতে সেখানে প্রতিনিধিদল যাচ্ছে।
জানা গেছে, দীর্ঘ নয় বছর বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে মন্ত্রিপর্যায়ে কোনো সফর হয়নি। সবশেষ ২০১২ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দেশটি সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। এর আগে ২০১০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস পাকিস্তান সফর করেছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমি কাল (আজ) এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রবিবার (কাল) বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।’ ওআইসির অনুষ্ঠানের বাইরে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠক হবে কি না, জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘না, সে রকম কোনো কিছু হচ্ছে না।’
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যায় এবং একাধিক যুদ্ধাপরাধীর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এর বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সংসদ বিবৃতি দিলে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানে ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০১৯ ও ২০২০ সালে দুই দফা টেলিফোন করেন। চলতি বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ অনুষ্ঠানে ইমরান খানের একটি শুভেচ্ছা বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়।
