বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমেছে

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৫৭ এএম

বাংলাদেশে ২০২০ সালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক রিপোর্টে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত বিভিন্ন তদন্ত কার্যক্রম এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা বেড়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়।

‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেররিজম (সিআরটি)’ নামের ওই রিপোর্টে বাংলাদেশের গত বছরের সন্ত্রাসবাদের চিত্র বিশ্লেষণ করে এসব মন্তব্য করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ রুখতে স্পষ্টভাবে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট তিনটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ রুখতে এবং নিজের ভূখণ্ডকে সন্ত্রাসীদের স্বর্গ হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সরকারের নতুন জাতীয় সন্ত্রাস দমন ইউনিট কাজ শুরু করে। সরকারের প্রধান অ্যান্টি-টেররিজম এজেন্সি হিসেবে কাজ করতেই এই বিশেষ শাখার যাত্রা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ নিজেদের ভূখণ্ডের সীমান্ত ও বিভিন্ন বন্দর দিয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদার করেছে বলেও রিপোর্টে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চিহ্নিত সন্ত্রাসী বা সন্দেহভাজনদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি ‘অ্যালার্ট লিস্ট’ তৈরিতেও একযোগে কাজ করছে ওয়াশিংটন-ঢাকা।

রিপোর্টে গত বছর হওয়া সুনির্দিষ্ট তিনটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একটি ঘটনা চট্টগ্রামের। ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে একটি পুলিশ বক্সের কাছে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুই পুলিশ ও এক সাধারণ নাগরিক আহত হন। এছাড়া একই বছরের ৩১ জুলাই নওগাঁ জেলার একটি মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি বোমা পেতে রাখা হয়েছিল। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই দুটি ঘটনারই দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। এরপর তৃতীয় ঘটনা হিসেবে ঢাকায় একটি হামলা চেষ্টার কথা বলা হয়। ২০২০ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় পুলিশের মোটরসাইকেলে একটি ছোট আইইডির সন্ধান পাওয়া যায়। এটিকে আইএস-অনুপ্রাণিত তৃতীয় হামলা প্রচেষ্টা বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত