দেশে যোগাযোগ অবকাঠামোর বর্তমান উন্নয়নের গতি-প্রকৃতি খুবই গতানুগতিক, যাকে আধুনিক বলতে অস্বস্তি হয়। ঢাকায় সহজ, টেকসই ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেছেন গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন পরামর্শক অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক। বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদ তৈরির ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে আয়োজিত এই সেমিনারে প্যানেল আলোচক ছিলেন ড. এম শামসুল হক।
ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আলোচনা করেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) রাষ্ট্রদূত মাসফি বিনতে শামস।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘দুই এর জায়গায় চার লেন; চারের জায়গায় ছয় লেন করছেন, কিন্তু রাস্তার মোড়ে গিয়ে আমরা আটকে যাই । মোড় রেখে দিয়ে যদি রাস্তা আরও চওড়া করি যানজট আরও বেশি লাগবে। বিজ্ঞান তাই বলে।’ তিনি বলেন, ‘ভারী অর্থনীতির কথা আমরা বলছি; ভারী অর্থনীতির দর্শন হচ্ছে একটা রাস্তা আমরা বানাব দশটা রাস্তার প্রোডাক্টিভিটির সমান পাব; দর্শনটা হতে হবে এ রকম।’
ইটনা মিঠামইন হাওরে তৈরি রাস্তা খুঁটি দিয়েও করা যেত উল্লেখ করে ড. শামসুল হক বলেন, ‘প্রকৃতি কিন্তু শাসন মানতে চায় না। লাগসই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে টেকসই উন্নয়ন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত যে যোগাযোগব্যবস্থা পেয়েছিলেন সেখান থেকে নৌ, রেল, সড়ক এই যে বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে তিনি ভারসাম্যপূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। তিনি বাজেট প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে তিনটি মাধ্যমকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।’
জাতীয় অর্থনীতির অগ্রগতির ক্ষেত্রে অবকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘অবকাঠামো প্রকল্পে আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুবই গুরুত্ব দেন। আমাদের অলিখিত একটা বোঝাপড়া আছে, কিছু বিষয় সামনে নিয়ে আসতে হবে। সড়ক অবকাঠামো, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং জলপথের অবকাঠামো এই সকলের সমন্বয়ে দেশের জন্য বিশাল সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে উঠবেÑযা উন্নত বিশ্বে দেখা যায়।’ সড়কের কোনো প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দিতে ৫-৭ মিনিটের বেশি সময় লাগে না বলে জানান তিনি।
ঢাকা শহরের ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘লাালবাতি জ¦ললে বলতেছে যান, আবার সবুজ বাতি জ¦ললে বলছে দাঁড়ান। এই যে অদ্ভুত ঘটনা ঢাকা শহরে প্রতিনিয়ত ঘটছে আমরা কিন্তু এইগুলো কেউ দেখি না।’ রাজধানীতে বাসে বাসে পাল্লা দেওয়ার কারণে দুর্ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘ঢাকার রাস্তায় মানুষ মেরে ফেলছে যাতে একজনের থেকে আরেকজন বেশি আয় করতে পারে। আমরা সমাধান করতে পারিনি।’
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালানো, প্রশিক্ষিত চালক তৈরির জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সমালোচনা করে স্থপতি মোবাশ্বের বলেছেন, সমন্বয়হীনতার এমন অস্বাভাবিক ঘটনা চিন্তা করা যায় না। রাজধানীতে যোগাযোগব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে মেট্রোরেলের উদ্যোগের প্রশংসা করে কিছু বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
