দেশে নির্বাচন নির্বাচন খেলা আর হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। আর এ দাবি আদায়ে একাত্তরে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে যেভাবে পাক হানাদার বাহিনীকে হটানো হয়েছিল, সেভাবেই যুদ্ধ করে বর্তমান সরকার সরাতে হবে।’
গতকাল শনিবার সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বিএনপির বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সমাবেশে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতাযুদ্ধ কোনো একজন ব্যক্তি বা দল করেনি। এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে করেছে। শহীদ জিয়াউর রহমান, আতাউল গনি ওসমানীসহ অনেক বীরের অবদান স্বীকার করে না আওয়ামী লীগ। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিলেট শত্রুমুক্ত করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। কিন্তু সরকার সে ইতিহাস মুছে একটি ভ্রান্ত গল্প নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাইছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরেও আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য বাসযোগ্য একটি ভূমি রেখে যেতে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। এদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। গুটিকয়েক মানুষ সরকারের ছত্রছায়ায় কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গিয়ে পাচারও করছে। দেশে আজ গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাবাস দিয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’
এদিকে সমাবেশের শুরুতে স্লোগান দেওয়া নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় তারা চেয়ার ছোড়াছুড়ি ছাড়াও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এতে সমাবেশস্থল ও আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। প্রায় ২৫ মিনিট চলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। পরে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অবশ্য সংঘর্ষের সময় বিএনপি মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে ছিলেন না।
এ বিষয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সরকারদলীয় এজেন্টরা কৌশলে সমাবেশে ঢুকে বিশৃঙ্খলা করে থাকতে পারে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির প্রমুখ বক্তব্য দেন।
