ঢাকায় মুশতারী শফীর প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা, বুধবার চট্টগ্রামে দাফন

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৪৪ পিএম

ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধের শব্দসৈনিক, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির আন্দোলনের অন্যতম নেতা শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফির প্রতি ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মুক্তিযুদ্ধের শব্দসৈনিক, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির আন্দোলনের অন্যতম নেতা বেগম মুশতারী শফির মরদেহ ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একে একে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ সময় তার ছেলে মেহরাজ তাহসিন শফী মায়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আমরা বাবাকে হারিয়েছি। এরপর বাবার আদর-স্নেহ আমরা মায়ের কাছেই পেয়েছি।’

মুশতারী শফীর স্বাধীনতা পদক না পাওয়ার আক্ষেপের কথা জানিয়ে তাহসিন বলেন, ‘আমাদের আশা ছিল, মা স্বাধীনতা পদক পাবেন। কিন্তু তিনি সেটা পাননি।’

শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় মুশতারী শফীর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ'৭১ কেন্দ্রীয় কমিটি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাসদ (মার্কসবাদী), গণতন্ত্রী পার্টি, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ তাঁতীলীগ, গেরিলা ১৯৭১, গীতাঞ্জলি, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, নাট্যযোদ্ধা, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী, বটতলা, রক্তধারা'৭১, গৌরব'৭১, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, সমাজতাত্ত্বিক ছাত্র ফ্রন্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

শ্রদ্ধা জানানোর পর একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যখন আমরা একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করি, বেগম মুশতারী শফী চট্টগ্রামে আন্দোলন সংগঠিত করেন এবং ১৯৯৪ সালে তার নেতৃত্বে গোলাম আজমের সমাবেশ প্রতিহত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধেও তার অসাধারণ ভূমিকা ছিল।’

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুশতারী শফী ধারণ করেছেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘ষাটের দশকে নারী জাগরণে, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে এবং পরবর্তী সময়ে মুশতারী শফী ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণা। তার সাহস ছিল অনুকরণীয়।’

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুরে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুশতারী শফীর মরদেহ নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা করা হয়।

মুশতারী শফীর মেয়ে রুমানা শফী দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘বুধবার মায়ের প্রতি চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এ জন্য ওই দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত মায়ের মরদেহ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে এবং সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, এরপর চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে জানাজা শেষে চৈতন্য গলিতে সমাহিত করা হবে মুশতারী শফীকে।

প্রসঙ্গত, সোমবার বিকেলে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুশতারী শফী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত