ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা চায় দু’বছর পর পর বিশ্বকাপ আয়োজন করতে। কিন্তু ফুটবলের সফল দুই অঞ্চল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা এই প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে। বরং তারা নতুনভাবে নেশন্স লিগ করতে যাচ্ছে ২০২৪ সাল থেকে। দ্বিবার্ষিক বিশ্বকাপ আয়োজনে সব ফুটবল ফেডারেশন যেন রাজি হয় সে জন্য লোভনীয় এক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছে ফিফা। রাজি হলে সবগুলো ফেডারেশনকে আগামী ৪ বছরে বাড়তি ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১৩৭ কোটি টাকা দেবে ফিফা!
ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে নেশনস লিগে যোগ দেবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ দক্ষিণ আমেরিকার ১০ দেশ। নেশনস লিগের শীর্ষ ধাপ অর্থাৎ ১৬ দলের সঙ্গে যোগ দেবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ কনমেবলের ৬ দল। অর্থাৎ ইউরোপ ও কনমেবলের শীর্ষ দলগুলোকে দুই বছর পরই দেখা যাবে একই টুর্নামেন্টে। এই দুই মহাদেশই দুই বিশ্বকাপের মধ্যবর্তী সময়ে ইউরো ও কোপা আমেরিকা আয়োজন করে। কিন্তু যদি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ হয়, তখন এই টুর্নামেন্টগুলো (ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও কোপা আমেরিকা) নিয়ে মানুষের কোনো আগ্রহই থাকবে না। কিন্তু ফিফাও জানে আর্থিকভাবে লোভনীয় এমন এক প্রতিযোগিতা থেকে বিরত থাকা কঠিন। তাই ফিফা ২১০টি ফেডারেশনের জন্যই লোভনীয় প্রস্তাব পাঠিয়েছে। বেশি টুর্নামেন্ট মানে ফিফার কাছ থেকে এই ফেডারেশনগুলো বেশি অর্থ পাবে। তাই গণতন্ত্রের পথে হেঁটে দুই বছর পরপর বিশ্বকাপের আয়োজনে ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করার নতুন উপায় বের করেছে ফিফা।
সোমবার রাতে অনলাইনে হয়ে গেছে ফিফা গ্লোবাল সামিট। তাতে ২১০ ফেডারেশনের মধ্যে ২০৭ সদস্য উপস্থিত ছিল। সেখানে দুটি স্বাধীন জরিপের তথ্য দিয়ে ফিফা জানিয়েছে, দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ হলে কত লাভবান হবে ফেডারেশনগুলো। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন দু’বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজন করলে প্রথম ৪ বছরে ৪৪০ কোটি ডলার (৩৭ হাজার ৭১২ কোটি টাকা) বেশি আয় বাড়বে। এই অর্থ ২১১ সদস্যের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে প্রতি চক্রে ফেডারেশনগুলো ৬০ লাখ ডলার (৫১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা) পায়, এই বাড়তি অর্থের ফলে সেটা বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ ডলার (২১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা) হবে। ফিফার পরিচালনা নীতি অনুযায়ী বণ্টনে কমবেশি হতে পারে।’ ফিফার প্রতিশ্রুত এই অর্থ বণ্টন কীভাবে হবে, তাও বলা হয়েছে। প্রথমে সব সদস্যের মধ্যে বণ্টনের জন্য ৩৫০ কোটি ডলারের একটি আলাদা তহবিল গঠন করা হবে। এতে প্রতিটি সদস্য গড়ে ১৬০ কোটি ডলার পাবে, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডারে কোনো পরিবর্তন আনা হলে যদি কোনো সদস্যের ক্ষতি হয়, সেটার ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও ব্যবস্থা রাখা হবে। বর্তমানে প্রতিটি সদস্য প্রতি চক্রে ৬০ লাখ ডলার পায়, সেটি ৫০ ভাগ বাড়িয়ে ৯০ লাখ ডলার করা হবে।
