পাকিস্তানে ২৩০০ বছরের পুরনো বৌদ্ধমন্দিরের সন্ধান

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৪৮ পিএম

পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রাচীন এক বৌদ্ধমন্দির আবিষ্কার করেছেন একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ। দেশটির খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকায় আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে নির্মিত মন্দিরটির সন্ধান পাওয়া গেছে। ইতালির কা ফসকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশটির প্রত্নতত্ত্ববিদের একটি দল এবং পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগ যৌথভাবে অনুসন্ধান কাজ চালায়।

ইতালির প্রত্নতত্ত্ববিদদের মিশনের পরিচালক অধ্যাপক লুকা এম ওলিভেরির বরাতে পাকিস্তানের ডন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৌদ্ধদের এ স্থাপত্য মৌর্য যুগের। সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরিত্যক্ত হওয়ার আগে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত এ মন্দিরের কার্যক্রম চলমান ছিল। পরে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের সময় গ্রিকরা সোয়াত উপত্যকার আসার পর শহরটিকে তাদের দুর্গ হিসেবে গড়ে তোলে। তখন মৌর্য শাসনামলে সম্রাট অশোকের সময়ে নির্মিত অবকাঠামোগুলোর খোঁজ পায় তারা।

ডন বলছে, খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে রাজা মেনান্দার পরবর্তী সময়ে স্থাপত্যকীর্তিটির আয়তন বাড়ানো হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত মন্দিরটির কার্যক্রম চলে। তবে চতুর্থ শতাব্দীতে এক ভূমিকম্পে বাজিরার কুশান শহরটি  প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় মন্দিরটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

অধ্যাপক লুকা বলছেন, বিস্ময়করভাবে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। কারণ এতে গান্ধারে বৌদ্ধের অবয়বের নতুন রূপ প্রকাশ পেয়েছে। পাকিস্তানের টাক্সিলার সিরকাপ শহরে এ ধরনের মাত্র একটি মন্দির পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী থেকে সোয়াত উপত্যকায় বৌদ্ধদের উপস্থিতি ছিল। এ ছাড়া এ আবিষ্কারের মাধ্যমে ইন্দো-গ্রিক শাসক মেনান্দার ও তার উত্তরসূরিরা যে বৌদ্ধ ধর্মের সমর্থক ছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা শুধু চার মিটার দৈর্ঘ্যরে এই বৌদ্ধমন্দির আবিষ্কার করেননি, একই সঙ্গে প্রাচীন একটি রাস্তাও আবিষ্কার করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ওই শহরের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার আবিষ্কার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক আবদুল সামাদ খান বলেন, নানা কারণে নতুন এ আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে সে সময়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পরমতসহিষ্ণুতা ও বিভিন্ন সংস্কৃতির বিকাশের বিষয়টি উঠে এসেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত