এবার পুলিশ সপ্তাহ হচ্ছে

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৬ এএম

করোনার প্রকোপের কারণে গেল বছর পুলিশ সপ্তাহ হয়নি। ওই সময় অনুষ্ঠানটি করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর। এবার করোনার প্রকোপ কমে আসায় পুলিশ সপ্তাহের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১৬-২১ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহ পালিত হবে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের বার্ষিক আয়োজন ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২২’ পালনের ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মো. কামরুজ্জামান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ সপ্তাহের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠ প্রস্তুত করা হচ্ছে। পুলিশের সব ইউনিট নিয়ে প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে।’         

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, সর্বশেষ পুলিশ সপ্তাহ হয় ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। করোনার প্রকোপের কারণে গত বছর পুলিশ সপ্তাহ করা সম্ভব হয়নি। তারপরও পুলিশ সদর দপ্তর নানাভাবে চেষ্টা করেছিল অনুষ্ঠানটি করতে। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার বিষয়টি চিন্তা করে সরকারের হাইকমান্ড থেকে সাড়া মেলেনি। এবার যাতে পুলিশ সপ্তাহটি করা যায় তা ছয় মাস আগ থেকে কাজ শুরু করে পুলিশ সদর দপ্তর। এই নিয়ে একাধিক টিম গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সরকারের হাইকমান্ডের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দেন এবারের অনুষ্ঠানটি করতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশ সপ্তাহ নিয়ে আজ (গতকাল) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন আইজিপি। এবারের পুলিশ সপ্তাহ কিছুটা কাটছাঁট হতে পারে। উদ্বোধন করাসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। তবে সশরীরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিবসহ অন্যরা উপস্থিত থাকবেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নানা দাবি-দাওয়া উত্থাপন করা হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার আরেক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাধারণত পুলিশ সপ্তাহ পাঁচ দিন হয়ে থাকে। সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত পুলিশ সদস্যদের বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) পদক দেওয়া হবে। তা ছাড়া একাধিক দরবার, আলোচনা, মতবিনিময়, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভাসহ নানা আয়োজন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেশকিছু দাবি জানানো হয়েছিল। দাবিগুলো শুনে তিনি তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। তবে এখনো একটি দাবিও বাস্তবায়ন হয়নি। একটি স্পোর্টস ট্রেনিং কমপ্লেক্স তৈরির দাবি জানানো হয়েছিল। এই দাবিটি পূরণ হয়নি এখনো। বিষয়টি আবারও প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে। তাছাড়া পুলিশের জন্য বিশেষ ভাতা দাবি উত্থাপন করা হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সদস্যদের জন্য যে গাড়ি বরাদ্দ আছে, সেই গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। প্রশাসন ক্যাডার ও সেনা কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ঋণে গাড়ি কেনার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পুলিশকেও যেন এই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয় সেই জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হবে। আরেকটি দাবি হচ্ছে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী ভাতা দেওয়া। সরকারি অন্য দপ্তরের কর্মকর্তারা সব ধরনের ভাতা পেলেও পুলিশ তা পায় না। কর্তব্যরত অবস্থায় আহত বা নিহত পুলিশ সদস্যদের জন্য এককালীন থোক বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টিও উত্থাপন করা হবে। পুলিশে ক্যাডার পদ বাড়ানোর দাবি জানানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত