নিহতের পরিবারের অভিযোগ

হত্যা মামলার এজাহার বদলে দিয়েছেন ওসি!

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:২১ এএম

রাজশাহীর চারঘাট থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় বাদীর জমা দেওয়া এজাহার (লিখিত অভিযোগ) পরিবর্তন করে খুনিদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ওসি নিজে নতুন করে এজাহার লিখে তাতে জোর করে স্বাক্ষর নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের বাবা মামলার বাদী রিয়াজ আলী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর অলোকার মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

রিয়াজ আলীর অভিযোগ, ছেলে মাইনুল ইসলাম সিলন (৩২) হত্যার ঘটনায় তিনি ২০ জনকে আসামি করে চারঘাট থানায় এজাহার জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওসি প্রকৃত খুনিদের নাম সেখান থেকে বাদ দিয়ে তার নিজের ইচ্ছামতো পাঁচজনের নামে মামলা নিয়েছেন।

নিহত সিলনের বাবা চারঘাটের ঝিকড়া গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ আলী জানান, গত রবিবার দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যায়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই পাঁচজনসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

কিন্তু নিহত সিলনের বাবার অভিযোগ, তার ছেলে হত্যায় জড়িত অনেকের নাম এজাহারে উল্লেখ করেনি পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে সিলনের মা কদবানু বেগম, ছোট ভাই ইব্রাহিম আলী রতন ও স্ত্রী আলেয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।

রিয়াজ আলীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান প্রতিবেশী সাজ্জাদ হোসেন। এতে বলা হয়, সিলন মারা যাওয়ার পরই হত্যার মূল অভিযুক্ত সম্রাটসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। তারপর পুলিশ রিয়াজকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে বলে, আসামিরা ধরা পড়েছে। এই পাঁচজনের বিরুদ্ধেই মামলা হবে। কম্পিউটারে এজাহার লিখে রিয়াজকে পড়ে শোনানো হয়। তখন তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অনেকের নাম এজাহারে নেই। তারপর পুলিশ আরও তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু জড়িত বাকিদের মামলায় আসামি করা হয়নি।

রিয়াজ আলী বলেন, চারঘাট থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম তাকে ভয় দেখান যে, তাদের দেওয়া এজাহার অনুযায়ী মামলা না করলে তার ছোট ছেলে ইব্রাহিম আলী রতনকে ধরে এনে মাদকের মামলা দেওয়া হবে। তখন ভয়ে তিনি এজাহারে সই করেন। তিনি দাবি করেন, ওসি তার কাছ থেকে সাদা কাগজেও একটি সই নিয়ে রেখেছেন।

রিয়াজ আলী আরও বলেন, ‘এটা পারিবারিক বিরোধ নিয়ে খুন। কিন্তু পুলিশ প্রচার করছে মাদক ব্যবসার বিরোধে খুন। এ কারণে পুলিশ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। সিলনকে হত্যার সঙ্গে জড়িতরাও মাদক ব্যবসা করে। পুলিশ তাদের আড়াল করছে।’

রিয়াজ আলীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু শুধু সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে লাভ আছে? গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন জড়িত অন্য কারও নাম বেরিয়ে এলে তাদেরও ধরা হবে।’ রিয়াজের কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন ওসি।

গত রবিবার বিকেলে সিলন হত্যার পর রাতে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তাররা হলো সম্রাট, জুয়েল রানা, হাসান আলী, জনি হোসেন ও রাসেল মিয়া। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিলন হত্যায় ব্যবহৃত চায়নিজ কুড়াল ও হাঁসুয়া উদ্ধারের কথা জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত