ই-কমার্স মামলার তথ্য নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৩৮ এএম

যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্রেতাদের পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এজন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তথ্য নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের গঠিত কমিটির সমন্বয়ক এএইচএম সফিকুজ্জামান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলার তথ্য চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আগামী সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে এ তথ্য জানাতে পুলিশ সদর দপ্তরকে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, এসক্রো পদ্ধতি চালু হওয়ার পর অনেক ক্রেতা ই-কমার্সে পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করেও পণ্য পাননি। এই টাকাগুলো পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে আটকে রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অনুমোদিত ও অননুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়েতে ৬০০ কোটি টাকারও বেশি আটকে আছে ই-কমার্স গ্রাহকদের। বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা পণ্য ডেলিভারি করতে পারবেন না জেনেও এই টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মাঝখান দিয়ে গত ৪-৫ মাস ধরে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ক্রেতারা টাকা ফেরত নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের বকেয়া অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ফেরত দেওয়া হবে।’

অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, এ কারণেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সব মামলার তথ্য আগামী সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জানাতে পুলিশ সদর দপ্তরকে বলা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে।

গত ৩০ জুন পণ্য বিক্রির নামে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ক্রেতাদের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা বন্ধ করতে এসক্রো সার্ভিস চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে দেশে এ ধরনের মডেলে ই-কমার্স ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় ইভ্যালিসহ প্রায় ২৫-৩০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। তবে বন্ধ হওয়ার কিছুকাল আগেও যেসব ক্রেতা পণ্য কেনার জন্য অর্ডার প্লেস করেছিলেন, তাদের টাকা পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে আটকা পড়ে। পণ্য ডেলিভারি করতে না পারায় এই টাকাগুলো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান তুলে নিতে পারেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত