‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রথম পর্যায়ের ব্যয় মেটাতে ‘সুকুক’ বন্ড ছেড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি নিলাম আয়োজন করবে ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইসলামিক সিকিউরিটিজ সেকশন। পাঁচ বছর মেয়াদে এই সুকুক বন্ড ইস্যু করা হবে। বন্ডের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর।
এ সুকুকে বিনিয়োগের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ হারে ভাড়া ষাণ¥াসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করবে সরকার।
নিলামে দেশি-বিদেশি যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে অবস্থিত যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব বা আল-ওয়াদিয়াহ রয়েছে তাদের মাধ্যমে বিড দাখিল করতে পারবে।
এই সুকুকের অভিহিত মূল্য হবে ১০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজের জন্য বা যেকোনো ক্লায়েন্টের জন্য ১০ হাজার টাকার গুণিতক যেকোনো পরিমাণে সুকুক কেনার জন্য নোটিসে বর্ণিত পদ্ধতিতে বিড দাখিল করতে পারবে। ২৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টা হতে দুপুর ১২টার মধ্যে বিড দাখিল করতে হবে। বিডে কৃতকার্য বিডারদের তাদের আবেদনের বিপরীতে বরাদ্দকৃত সুকুকের পরিমাণ একই দিনে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হবে। অকশন-পরবর্তী কার্যদিবসে (৩০ ডিসেম্বর, ২০২১) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রক্ষিত আল-ওয়াদিয়াহ বা চলতি হিসাব বিকলন এবং সিকিউরিটিজ হিসাব আকলন করে এ লেনদেন সম্পন্ন করা হবে। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক সুকুক নিলামসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
প্রসঙ্গত, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুদনির্ভর ব্যবসা না করার কারণে সরকারের অনেক ধরনের বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারছিল না। এ কারণে দীর্ঘদিন গবেষণার পর গত বছর সরকার ইসলামিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুকুক ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়।
গত বছর ৮ অক্টোবর সুকুক ইস্যু ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত নীতিমালায় অনুমোদন দেয় সরকার। ওই নীতিমালার চতুর্থ অনুচ্ছেদে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে এই বন্ডের ‘স্পেশাল পারপাস ভেহিকল’ বা এসপিভি এবং ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক দুই দফায় বিনিয়োগকারীদের কাছে সুকুকের সার্টিফিকেট বিক্রি করে।
গত বছর ২৮ ডিসেম্বর বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিচালিত একটি প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য প্রথম দফায় ৪ হাজার কোটি টাকা তোলে সরকার। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় দফার নিলাম চলতি বছরের ২৮ জুন আরও ৪ হাজার কোটি টাকা তোলে সরকার।
এদিকে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও সুকুক ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে পুঁজিবাজারে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড। এই সুকুকের ৭০ শতাংশের ক্রেতা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো ছাড়াও সুকুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) আবেদন করেছে।
