২১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৩২ পিএম

মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর দুই বছরে ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ। করোনায় বিশ^ব্যাপী সংকটাপন্ন পরিস্থিতি ও দীর্ঘ লকডাউনের মধ্যেও এমন বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে সরকারের তিনটি বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। অবশ্য এই বিনিয়োগ প্রস্তাবের বড় অংশই এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। দুবাইতে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ এক্সপোতে এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের বিভিন্ন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কভিড মহামারী শুরুর পর ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে গত দুই বছরে বাংলাদেশ ২১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে। কভিডের কারণে বাংলাদেশসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে লকডাউন থাকা সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণের এ বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রতিফলন বলে জানিয়েছেন বিডার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিডা জানিয়েছে, করোনা মহামারীর শুরু থেকে গত দুই বছরে দেশে যেসব বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) ১৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব রেকর্ড করেছে। এ সময়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ৫ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ আড়াই বিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

গত দুই বছরে বিডা যেসব বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে, তার বড় অংশই এসেছে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। বিডা পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২০ সালে বিডা ৭ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পায়, যার মধ্যে ৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রস্তাব স্থানীয় বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এসেছে, যা মোট বিনিয়োগ প্রস্তাবের ৬৮ শতাংশ। এ সময় বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং যৌথ উদ্যোগ থেকে ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছিল। আর চলতি বছর (২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত) বিডায় নিবন্ধিত মোট বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ৬ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার স্থানীয় বিনিয়োগ। চলতি বছর মোট বিনিয়োগ প্রস্তাবের প্রায় ৯০ শতাংশ। এ সময় বিদেশি ও যৌথ উদ্যোগ থেকে ৮০৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

দুবাই এক্সপো ২০২০-এ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জিং সময়েও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে ১৬ কোটিরও বেশি ভোক্তার বাজার রয়েছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুযোগ এবং উচ্চতর রিটার্ন পেতে পারেন।

দুবাই এক্সপোতে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) জানায়, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ১ হাজার ১৫০ একর জমিতে ৫৩৯টি শিল্প প্লট স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। ইতিমধ্যে সেখানে কারখানা স্থাপনের জন্য ১৪০টি প্লট প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের ৭৮টি কোম্পানি ২৫০টির বেশি প্লটের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে জাপান একাই ৫০টি প্লট চেয়েছে। এক্সপোতে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল একেএম জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা বিদ্যমান আটটি ইপিজেড ছাড়াও আরও তিনটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এবং একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, যেখানে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রয়োজনে ওয়ান-স্টপ পরিষেবা পেতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত