আপিল বিভাগের মন্তব্য

বর্তমান সময়ে অর্থ পাচার গুরুতর অপরাধ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১০ এএম

অর্থ পাচারকে বর্তমান সময়ের সিরিয়াস অফেন্স (গুরুতর অপরাধ) বলে মন্তব্য করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ক্যাসিনোকা-ে গ্রেপ্তার ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জয়গোপালকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিল করার আদেশ দিয়ে এমন মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ গত ২ নভেম্বর জামিন বাতিলের এ আদেশ দেয়। গত ১৯ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ আদেশে বিচারপতিরা সই করেন। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

গত ১৯ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জয়গোপালের আপিল গ্রহণ করে অর্থ পাচারের চার মামলায় তাকে জামিনের রায় দেয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতির আবেদন) নির্দেশ দিয়ে এ বিষয়ে শুনানির জন্য নথি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে জয়গোপালকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের রায় বাতিলের আদেশ দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। জয়গোপালের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন ফকির। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

সংক্ষিপ্ত আদেশে আপিল বিভাগ বলে, ‘অর্থ পাচারের যে অভিযোগ তাতে মামলার এজাহারে আসামির নাম না থাকলেও অন্য আসামিদের স্বীকারোক্তিতে তার নাম এসেছে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নথি দাখিল করেছেন, তাতে এই মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত। মামলার এমন পরিস্থিতিতে আমরা হাইকোর্টের এই রায় (জয়গোপালের জামিন) বাতিল করতে ইচ্ছুক।’ আদালত মামলার কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। সে ক্ষেত্রে সম্ভব হলে এক বছরের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।

প্রসঙ্গত, বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ে এর আগে উচ্চ আদালত নানা সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে এসব অপরাধ রোধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের ধীরগতিতে উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট। কর ফাঁকি-সংক্রান্ত আলোচিত পানামা ও প্যারাডাইস কেলেঙ্কারিতে উঠে আসা বাংলাদেশি ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা গত ৫ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করে দুদক। এর মধ্যে ১৪ জনের নাম এসেছিল পানামা পেপারসে। আর ২৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম আসে প্যারাডাইস পেপারসে। এতে নাম আসা বাংলাদেশি অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অর্থ পাচার রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেটি জানতে চায় হাইকোর্ট। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটকে (বিএফআইউ) আগামী ৯ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলে আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিন উদ্দিন মানিক মামলার নথির বরাতে জানান, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের একজন ফুটবলার ছিলেন জয়গোপাল। খেলা থেকে অবসরে গিয়ে ওই ক্লাবের পরিচালনা পরিষদের সদস্য এবং পরে কোষাধ্যক্ষ হন। ২০১৪ সালে ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। গত বছরের ১৩ জানুয়ারি ঢাকার গে-ারিয়ার একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে সিআইডি। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এনু ও রূপণ নামের দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুজনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগসহ একাধিক মামলা হয়। এনু ও রূপণ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের জবানিতে জয়গোপালের নাম উঠে আসে। পরে ওই বছরের ১৩ জুলাই জয়গোপালকে লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন তাকে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ঢাকার একটি আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত