সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে প্রাণ গেল এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর। নিহত আঁখি আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল খলিলুর রহমান কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। কয়েক দিন আগে এক যুবকের সঙ্গে তার বাগদানও হয়। পরীক্ষা শেষে ধুমধাম করে বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল তার পরিবারের। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ দিনের পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়কেই শেষ হয়ে গেছে সেই স্বপ্ন।
পুলিশ জানায়, গতকাল পরীক্ষা শেষে মায়ের সঙ্গে মামার অটোরিকশায় চড়ে মির্জাপুর সদর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আঁখি। দুপুর ১২টার দিকে মির্জাপুর-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়কের ত্রিমোহন ফিরিঙ্গিপাড়া এলাকায় তাদের গাড়িটি একটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে বংশাই নদীতে পড়ে ডুবে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা আঁখির মা ফরিদা ইয়াসমিন ও চালক (মামা) ফরহাদ মিয়াকে উদ্ধার করেন। তাদের চেষ্টায় অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়। তবে আঁখি নিখোঁজই থাকেন। পরে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুই ঘণ্টা পর আঁখির মরদেহ উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনাস্থলে আঁখির স্বজনরা জানান, তিনি বাঁশতৈল ইউনিয়নের গায়রাবেতিল গ্রামের আবদুল মিয়া ও উত্তর পেকুয়া জাগরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক ফরিদা ইয়াসমিনের মেয়ে। পাশের গ্রামের রায়হান নামের এক যুবকের সঙ্গে কয়েক দিন আগেই তার বাগদান হয়। পরীক্ষার পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের কথা ছিল।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পরই সেখানে উৎসকু জনতার ঢল নামে। মা ফরিদা ইয়াসমিন বুক চাপড়ে মেয়ের জন্য বিলাপ করছেন আর সৃষ্টিকর্তার কাছে মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন, যাকে পারছেন তাকেই বলছেন মেয়েকে উদ্ধার করে দিতে। পরে মরদেহ উদ্ধার হলে বারবার মূর্ছা যান তিনি। জ্ঞান ফিরলেই মেয়ের বিয়ে আর পরীক্ষার ফল নিয়ে আক্ষেপ করতে থাকেন। ঘটনাস্থলে আঁখির হবু স্বামী রায়হানকেও বিলাপ করতে দেখা যায়।
সে সময় আঁখির সহপাঠী হেলেনা আক্তার ও রিয়া আক্তার জানান, রায়হান নামের ওই যুবকের সঙ্গেই আঁখির বিয়ে চূড়ান্ত ছিল। পরীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকতার কথা ছিল। আঁখি তাদের বিয়েতে উপস্থিত থাকতেও বলেছিলেন।
মির্জাপুর থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, ‘কোনো অভিযোগ না থাকায় মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’
