ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের দুজনের মরদেহ কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘাটুরা গ্রামের কবরস্থানে মরদেহ দাফন করতে গেলে বাধা দেন স্থানীয় সুন্নি মুসলমানদের একাংশ। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এলাকাবাসীর আলোচনার পর মরদেহ দুটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের নিজস্ব কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে গত বছরের ৯ জুলাই এই ঘাটুরা গ্রামেই বাবা আহমদিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী হওয়ায় এক শিশুর মরদেহ কবর থেকে তুলে রাস্তায় ফেলে রেখেছিল আহমদিয়া-বিদ্বেষীরা।
জানা গেছে, ঘাটুরা গ্রামে গত বুধবার রাতে এক নারী (৪৭) এবং গতকাল ভোরে এক বৃদ্ধ (৭০) মারা যান। তারা দুজনই আহমদিয়া সম্প্রদায়ের। গতকাল সকালে ঘাটুরা গ্রামের কবরস্থানে তাদের মরদেহ দাফন করতে গেলে স্থানীয় সুন্নি মুসলমানদের কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ বাধা দেন। এ সময় তাদের সঙ্গে গ্রামের আরও বেশ কিছু লোক যোগ দেন। তারা মারা যাওয়া দুজনের মরদেহ আহমদিয়া সম্প্রদায়ের নিজস্ব কবরস্থানে নিয়ে দাফন করতে বলেন। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘাটুরা গ্রামের আহমদিয়া মুসলিম জামাতের সাধারণ সম্পাদক এস এম সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মরদেহ দাফনের জন্য কবর খোঁড়ার পর গ্রামের কিছু লোক এসে বাধা দেয়। প্রশাসন এসে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন। আহমদিয়াদের জন্য আলাদা কবরস্থান করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে মারা যাওয়া দুজনের মরদেহ কান্দিপাড়া এলাকায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের নিজস্ব কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘাটুরা গ্রামে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা কবরস্থান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
গত বছরের ৯ জুলাই বাবা আহমদিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী হওয়ায় মাইকিং করে লোক জমায়েতের মাধ্যমে ঘাটুরা গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা দুদিন বয়সী এক শিশুর মরদেহ কবর থেকে তুলে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। গ্রামটিতে বসবাস করা আহমদিয়া-বিদ্বেষীরা এ ঘটনা ঘটায়। শিশুটির মরদেহ পরে পুলিশি পাহারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়ায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের নিজস্ব কবরস্থানে দাফন করা হয়।
