করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে আগামী ১ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) বসতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। গত বছরই পূর্বাচলে মেলা হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। চলতি বছরের অক্টোবরে পূর্বাচলে স্থায়ী প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন সেখানে চলছে স্টল প্রস্তুতের কাজ। এ নিয়ে দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আগ্রহ ও উন্মাদনার কমতি নেই। পাশাপাশি মেলার প্রবেশমুখের দুই মহাসড়কে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় যাতায়াতে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী, দর্শনার্থী ও এলাকাবাসী।
পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের ৩১২ নম্বর রোডের ২ নম্বর প্লটে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার। ৩৫ একর জমির মধ্যে ২০ একরের ওপর নির্মিত এ সেন্টারে আধুনিক কার পার্কিং, সম্মেলন কক্ষ, সভাকক্ষ, প্রেস সেন্টার, অভ্যর্থনা কক্ষ, বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্র ছাড়াও রয়েছে আধুনিক সুবিধা সংবলিত ডরমিটরি। এ ছাড়া প্রদর্শন কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি, আধুনিক ব্যবস্থাসহ বিদ্যুতের নিজস্ব সাবসেন্টার, সার্ভিস রুম, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, কালভার্ট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রউফ মালুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা মহামারী পরিস্থিতি কাটিয়ে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি শুরু হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। এবারই প্রথম গ্রামের লোকজন সরাসরি এ মেলার সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে রাস্তাঘাটের বেহালদশার কারণে সাধারণ মানুষ কিছুটা ভোগান্তির সম্মুখীন হতে পারেন।’
পিতলগঞ্জের বাসিন্দা ঠিকাদার মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, যাতায়াতে ভোগান্তি থাকলে দর্শনার্থী আসবে কম। বিক্রেতা ও পণ্য প্রদর্শনীর লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালাহউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ‘আমরা রূপগঞ্জবাসী এ মেলায় আগত দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীসহ সবার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখব। এখনো স্থানীয় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন বাকি, খানাখন্দ মেরামত জরুরি। এ বছর কিছুটা কষ্ট হলেও আগামী বছর সেই ভোগান্তি আর থাকবে না।’
এক্সিবিশন সেন্টারটির প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘মেলা প্রাঙ্গণ প্রস্তুত। ইপিবি (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো) মেলার লেআউটসহ অন্যান্য কাজ করবে। মেলায় যাতায়াত পথ ভোগান্তিহীন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি। বাণিজ্যমেলাকে কেন্দ্র করে কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে পূর্বাচলের মেলাকেন্দ্রে বিআরটিসির বাস চলাচল করবে। মাসব্যাপী এই রুটে বিআরটিসির ৩০টি বাস চলাচলের জন্য চিঠি দিয়েছে ইপিবি।’
এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিক বলেন, ‘সম্প্রতি রাজউকের চেয়ারম্যান, ঊর্ধ্বতন ইঞ্জিনিয়ার ও ইপিবির কর্মকর্তারা মিলে সভা করেছি। সেখানে ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্বাচলের ১৩ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের জন্য উপযোগী করার সিদ্ধান্ত হয়; যা ইতিমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ফলে দুই লেন করে দুই পাশে চার লেনে গাড়ি চলবে। কোনো কোনো জায়গায় হয়তো বেশিও থাকবে। এখনই অনেক জায়গায় প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে।’
মেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তা প্রকৌশলী মামুন আহমেদ বলেন, ‘এবারের বাণিজ্যমেলায় ৩০০ স্টল থাকার কথা ছিল। তবে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সেখানে ২০০ স্টল বানানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে ইপিবির সচিব ও মেলার পরিচালক মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আগামী ১ জানুয়ারি থেকে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলা হবে। যাতায়াতে ভোগান্তি এ বছর কিছুটা থাকতেই পারে। তবে আমরা বিআরটিসিকে চিঠি দিয়েছি কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচ থেকে মেলা পর্যন্ত শাটল সার্ভিস চালু করার জন্য।’
১৯৯৫ সাল থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা’ হয়ে আসছে। তবে সেখানে স্থায়ী প্যাভিলয়ন ছিল না। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। পরে ২১ অক্টোবর প্রদর্শনী কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সেন্টারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের অনুদান ৫২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকারের ২৩১ কোটি টাকা ও ইপিবি নিজস্ব তহবিল থেকে ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করেছে।
