দরপতন ঠেকাতে মার্জিন ঋণে আরও সুবিধা

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫৮ পিএম

সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তার প্রভাবে গতকাল রবিবারও বড় পতন হয়েছে। গত দুই সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় বিক্রিচাপে পড়ে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৮০ শতাংশ সিকিউরিটিজ দর হারিয়েছে। এতে করে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি ৭২ পয়েন্টের বেশি কমে ৬৬২৯ পয়েন্টে নেমেছে। সূচকের এ অবস্থান গত সাড়ে চার মাসে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ১১ আগস্ট এ সূচকটি ৬৬২৩ পয়েন্টে নেমেছিল।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১০ অক্টোবর ডিএসইর প্রধান সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থানে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এরপর থেকেই নিয়মিত ধারায় দরপতন দেখা যাচ্ছে। পুঁজিবাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) মতবিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত আড়াই মাস ধরে অস্থিরতা চলছে, যার প্রভাবে নিয়মিত দরপতনের ধারা তৈরি হয়েছে। এসইসির বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে সাময়িক চাঙ্গাভাব দেখা গেলেও তা স্বাভাবিক হচ্ছে না বাজার পরিস্থিতি। গত ১০ অক্টোবরের পর সূচকটি কমেছে ৭৪৪ পয়েন্ট বা ১০ শতাংশের বেশি।

এদিকে বাজারের অব্যাহত দরপতন রোধে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে মার্জিন ঋণ সুবিধার ক্ষেত্র আরও বাড়িয়েছে এসইসি। এখন থেকে ‘জেড’ ছাড়া অন্য কোনো ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রথম দিন থেকেই মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। আগে ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণ সুবিধা পেতে ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। গতকাল এসইসির নিয়মিত কমিশন সভায় বাজার চাঙ্গা করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ‘জেড’ ক্যাটাগরি ছাড়া অন্য কোনো ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণ প্রদান বাধা থাকবে না। তবে ‘জেড’ ক্যাটাগরি থেকে অন্য কোনো ক্যাটাগরিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে, সাত কার্যদিবস মার্জিন প্রদান করা যাবে না। আগে জেড থেকে অন্য কোনো ক্যাটাগরিতে উন্নীত হলে ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত কোনো মার্জিন ঋণ সুবিধা দেওয়া যেত না। অবশ্য আগের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রথম ৩০ কার্যদিবস ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন ঋণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে এসইসি।

এর আগে বাজার চাঙ্গা করতে গ্রাহকের ১০০ টাকার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা মার্জিন ঋণের সুবিধা দেয় এসইসি। এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ারধারণ ৩০ শতাংশ পরিপূরণে কঠোর অবস্থানে যায় কমিশন। এর ফলে অন্তত ২০ কোম্পানি এসইসির শর্ত পূরণ করে, যা চলতি বছরের শুরুতে পুঁজিবাজার চাঙ্গায় ভূমিকা রাখে। এর বাইরে দুর্বল কোম্পানির পর্ষদ ভেঙে তা পুনর্গঠনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয় কমিশন। তবে বিভিন্ন উদ্যোগে সাময়িক প্রভাব পড়লেও কয়েক মাস পর বাজার পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে পড়ে।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনে সূচকের নিম্নমুখী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় পতনের দিকে এগিয়ে যায় বাজার। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৩০০টি দরই কমে যায়। বিপরীতে মাত্র ৪৭টির দর বাড়ে ও অপরিবর্তিত ছিল ৩১টি।

খাতওয়ারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল একমাত্র বীমা ছাড়া অন্যসব খাতের বাজার মূলধন কমে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে পাট, সিরামিক, সেবা ও নির্মাণ, ভ্রমণ এবং ট্যানারি খাত। তবে সূচক কমাতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ব্যাংক, সিমেন্ট, বস্ত্র, জ্বালানি ও বিবিধ খাতের।

গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৮৮৫ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। একক কোম্পানি হিসেবে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে সোনালী পেপারের শেয়ারে। এ শেয়ারটিতে ১৫৩ কোটি টাকা কেনাবেচা হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ শতাংশ। এছাড়া বেক্সিমকো লিমিটেড, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, বিএসসি, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, বিএটিবিসি, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, ফরচুন সুজ ও এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত