কক্সবাজারে স্বামী-সন্তান নিয়ে বেড়াতে আসা নারী পর্যটক ধর্ষণ মামলায় ঘটনায় মূল হোতা ও প্রধান আসামি আশিকুল ইসলামকে মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল রবিবার রাতে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারে ঘুরতে আসা এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মূলহোতা ও প্রধান আসামি আশিকুল ইসলামকে মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি আশিকুলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ইয়াবা, অস্ত্রসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। আশিক কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা।
এই নিয়ে পর্যটক ধর্ষণের মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর মধ্যে আশিক ও ‘জিয়া গেস্ট ইন হোটেল ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনের নাম মামলার এজাহারে রয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে বাহারছড়া এলাকার ইসরাফিল হুদা জয় এবং মেহেদী হাসান বাবু এখনো গ্রেপ্তার হননি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণে জড়িত অন্য আসামিরাও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। আশিককে গত বুধবার রাতে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শনাক্ত করেছিল র্যাব। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা, ছিনতাই, নারী ও শিশু নির্যাতন, অস্ত্র, মাদকসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। সর্বশেষ গত ৭ নভেম্বর একটি ছিনতাই মামলায় পুলিশ আশিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৬ ডিসেম্বর কারাগার থেকে বেরিয়ে পর্যটক নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় আশিক। এই মামলার আসামিরা মূলত কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তাদের গ্যাংয়ে অর্ধশতাধিক সদস্য রয়েছে।
গতকাল দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ গত শনিবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলো কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ বাহারছড়া গ্রামের রেজাউল করিম (৩০), একই গ্রামের মেহেদী হাসান (২৫) ও চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবনিয়া গ্রামের মামুনুর রশীদ (২৮)। তাদের আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করছে কক্সবাজার সদর ট্যুরিস্ট পুলিশ। নারী পর্যটক ও তার স্বামী তাদেরই হেফাজতে রয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হামীমুন তানজীনের আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিয়েছে নারী পর্যটক। অন্যদিকে ‘জিয়া গেস্ট ইন হোটেল ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
গত বুধবার সকালে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে যান তিনি। ওঠেন শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে। সেখান থেকে বিকেলে যান সৈকতের লাবণী পয়েন্টে। সেখানে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার আট মাসের সন্তান ও স্বামীকে সিএনজি অটোরিকশায় করে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আরেকটি অটোরিকশায় তাকে তুলে নেয় তিন যুবক। পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে তিনজন। ধর্ষণ শেষে তাকে নেওয়া হয় জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে। সেখানে ইয়াবা সেবনের পর আরেক দফা তাকে ধর্ষণ করে ওই তিন যুবক। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে জানিয়ে রুম বাইরে থেকে বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
