অষ্টম বিপিএল ড্রাফটের আগের রাতেও ঢাকার দলের ফ্র্যাঞ্চাইজি অনিশ্চিত। অথচ ড্রাফট শেষে তারাই সবার আলোচনায়। এই দলের হয়ে প্রথমবার একসঙ্গে বিপিএল খেলবেন মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও তামিম ইকবাল। কিন্তু একদিন আগেও দল পাননি এ তিনজন। রবিবার রাতে ঢাকা অটো চয়েজে চুক্তি করে জাতীয় টি-২০ দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে। পরদিন (গতকালের) ড্রাফটে মাহমুদউল্লাহই তামিম ও মাশরাফীকে বেছে নেন। ঘরোয়া টুর্নামেন্টে একসঙ্গে বড় তারকারা আগেও খেলেছেন। গত বছর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি লিগে জেমকন খুলনায় খেলেছেন মাশরাফী-সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। তার আগের বছর ঢাকা প্লাটুনের হয়ে বিপিএল খেলেন তামিম-মাশরাফী।
দেশের ক্রিকেটের তিন মহারথীর উপস্থিতি ঢাকার শক্তি বেড়েছে বহুগুণে। তবে এখনো ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাওয়া দলটির শেষ পর্যন্ত বিসিবির অধীনেই টুর্নামেন্টে খেলতে হয় কিনা সেটাই প্রশ্ন। ঢাকা বিসিবির অধীনে খেললে আয়োজক দলের ট্যাগ লেগে যেতে পারে। অবশ্য বিসিবি পরিচালক বিপিএল গভর্নিং বডির সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক দলটিকে নতুন মালিকানার অধীনে দেওয়ার কথা বলেন। আগের দিন পর্যন্ত দল নিশ্চিত না করা ঢাকা মূলত আকর্ষণ বাড়াতেই সেরা তিন তারকাকে দলে ভেড়ায়। অথচ দীর্ঘদিন ইনজুরিতে থাকা তামিম ও সবশেষ গত বছর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টিতে খেলা মাশরাফীর এবারের ড্রাফটে দল পাওয়া নিয়েও সন্দেহ ছিল। বিসিবি নির্বাচক হাবিবুল বাশার ও ক্রিকেট অপারেশনসের সহযোগী কর্মকর্তা হিসেবে থাকা শাহরিয়ার নাফিস ঢাকার হয়ে গতকাল হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে আয়োজিত ড্রাফটে অংশ নেন। সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন। পরে তামিম যোগ দেন তাদের সঙ্গে। খুব বেশি প্রস্তুতি না থাকায় ক্রিকেটার দলে নেওয়া নিয়েও অনেকবারই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে দেখা যায় তাদের।
মাহমুদউল্লাহ ড্রাফটের প্রথম ডাকেই তামিমকে দলে নেন, পরের রাউন্ডের ডাকে নেন পেসার রুবেল হোসেকে। আর তৃতীয় ডাকে মাশরাফীকে নেন তারা। পরে দেশের টি-টোয়েন্টিতে পরীক্ষিত পারফরমার শুভাগত হোমকেও নেন তারা। এছাড়া জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় শফিউল ইসলাম, আরাফাত সানি, জহুরুল ইসলাম, শামসুর রহমানদের নিয়েছে ঢাকা। তাই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই দলের সম্ভাবনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে শুরুতেই মজা করেন তামিম। বলেনÑ ‘আমরা বুড়োদের দল হয়ে গেছি তাই না?’ পরে তিন অভিজ্ঞ একসঙ্গে খেলার বিষয়টি সামনে এনে খেলা উপভোগকেই প্রাধান্য দিলেন, ‘আসলে এরকম তো প্রত্যাশা করা যায় না। সাধারণত যেটা হয়, আমরা তিনজন তিন দলে থাকি। এবার সৌভাগ্যবশত হয়েছে, খুব খুশি। আমার মনে হয় ক্রিকেটে জেতা হারাটা তো সব না। ক্রিকেটে উপভোগ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তিনজন একসঙ্গে থাকল এমনিতেই উপভোগ করব।’
তামিম জানান, ‘আমি কিছু খেলোয়াড় সাজেস্ট করেছি, রিয়াদ ভাই কিছু সাজেস্ট করেছেন, সুমন ভাই সাজেস্ট করেছেন, যেগুলোকে আমরা নিয়েছি। কিন্তু সবার শেষ কথা বিসিবিকে ধন্যবাদ দিতে হয়। শেষ মুহূর্তে এসে উনারা টেক ওভার করেছেন। আমাদের বলা হয়েছিল যাকে ইচ্ছে নিতে পারব। সাধারণত এমন সময় হয় যে এত বাজেট, এর বেশি খরচ করা যাবে না। বিসিবি এই জায়গায় ব্রিলিয়্যান্ট ছিল। সব বোর্ড পরিচালক বলেছেন যাকে ইচ্ছে নাও।’
ওদিকে ঢাকার নেতৃত্ব পেতে যাওয়া মাহমুদউল্লাহও মাশরাফী-তামিমের সঙ্গে একসঙ্গে খেলার বিষয়টিকে সুখবর বললেন। আর এই দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবেন কি না তা তুলে রাখলেন টুর্নামেন্ট শুরুর জন্য, ‘আসলে দল বেশ ভালো। চ্যাম্পিয়ন হব কি হব না এটা অনেক পরের কথা। আপনি সেরা টিমটা বানাতে পারেন, কিন্তু তারা ভালো করবে কি না সেটার নিশ্চয়তা নেই। একটা খুব বেশি ভালো দল ভালো নাও করতে পারে। নির্ভর করবে আমরা কীভাবে খেলি। টিম নিয়ে অনেক খুশি, কিন্তু আমাদের ভালো খেলতে হবে।’
তিন তারকার একসঙ্গে হওয়ার বিষয়টিকেও সংবাদ সম্মেলনে ছাপিয়ে গেল মাহমুদউল্লাহ-তামিম ইকবাল সম্পর্ক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল এ দুই ক্রিকেটারের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠেছে। এদিন নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টা খোলাসা করলেন তারা। তামিম বলেন, ‘দেখেন একটা বিষয় শেয়ার করি...আমরা তো মাত্র একরাতের মতো সময় পেলাম। তো আজ সকালেই রিয়াদ ভাই আমাকে কল করে বলল তুই একটু জলদি আয়। তো এখানে আমি আর কী বলব বা কীভাবে বোঝাব যে আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে।’ ওদিকে মাহমুদউল্লাহ বললেন বাইরে কে কী বলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তাই এ নিয়ে ভাবেন না খুব একটা, ‘অনেক কিছুই আমার হাতে নেই। অনেকেই অনেক কিছু ভাবে। আমি সবসময় আমার তরফ থেকে বিশ্বাস করতাম যে বন্ডিং বা রিলেশন সবসময়ই ভালো ছিল।’
