টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই দফায় দরপত্র আহ্বান করেও উপজেলা সদর থেকে ভাওড়া-কামারপাড়া সড়কটির পাকাকরণের কাজ প্রায় ৯ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে এই সড়কটি দিয়ে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না। দ্বিতীয়বার নিযুক্ত ঠিকাদার কাজ ফেলে রাখায় তার সঙ্গেও চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মির্জাপুর কার্যালয় ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলা সদর থেকে কামারপাড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার সড়ক দিয়ে মির্জাপুরের ভাওড়া, বহুরিয়া, ওয়ার্শী ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ঢাকার ধামরাই, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার লোকজন চলাচল করেন। সড়কটির উন্নয়নকাজ শেষ হলে ঢাকার সঙ্গে মির্জাপুরের বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। প্রায় ৯ বছর আগে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মির্জাপুর এলজিইডি কার্যালয় থেকে সড়কটির ভাওড়া খানপাড়া বাজার পর্যন্ত পাকাকরণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়।
তখন এ সড়কটির কাজ পান ঠিকাদার আবদুল জলিল সরকার। অপরদিকে, খানপাড়া বাজার থেকে কামারপাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ৬৮ লাখ টাকার কাজ পায় আলিফ ট্রেডার্স। আলিফ ট্রেডার্স কাজ শেষ করলেও জলিল সরকার প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকায় মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ করে ফেলে রাখেন। এতে আলিফ ট্রেডার্সের শেষ করা কাজের সুফল পাননি এলাকাবাসী। এদিকে সড়কটির ধারণক্ষমতার অধিক ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় ফেলে রাখা অংশের অধিকাংশ স্থানই দেবে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় রাস্তাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কাজ ফেলে রাখায় স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সাড়ে তিন বছর আগে জলিল সরকারের কাজের জামানত বাবদ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করে। পরে এলজিইডি বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটির কামারপাড়া পর্যন্ত উঁচুসহ সম্প্রসারণ, পাকাকরণের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে। ওই সময় কাজটি পায় টাঙ্গাইলের অবনী এন্টারপ্রাইজ। প্রায় চার কোটি টাকার কাজটি এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গত বছরের জুনে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় বছর পরও কাজ শেষ হয়নি। নতুন ঠিকাদার গত ফেব্রুয়ারিতে সড়কের দুই পাশে থাকা ধানক্ষেত থেকে প্রায় সাত ফুট গভীর করে এক্সাভেটর দিয়ে মাটি কেটে রাস্তার দুইপাশে ফেলেন। এরপর ভাওড়া ফতেপুর বাজার পর্যন্ত কিছু স্থানে খোয়া আর বালু ফেলে কাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়রা জানান, আগে কাঁচা রাস্তাতে কোনোভাবে চলাচল করা যেত। কিন্তু পাকাকরণের কাজ শুরুর পর ৯ বছর ধরে তারা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অবনী এন্টারপ্রাইজের মালিক হেকমত আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমির মালিকরা মাটি দিতে চায় না। বুঝিয়ে-সুঝিয়ে যে মাটির ব্যবস্থা করা হয়েছিল বন্যায় তা চলে গেছে।
মির্জাপুর এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে কয়েক দফা চিঠি দিলেও লাভ হয়নি। এখন ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের কাজ চলমান।
