গোপালগঞ্জের সদর উপজেলায় বাসের চাপায় ভ্যানের যাত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ছাত্র রাইসুল ইসলাম শুভসহ (২২) দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঘোনাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অন্যজন ভ্যানচালক লিকু শেখ (৪১)। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরপাথালিয়া গ্রামে।
শুভর বাড়ি বগুড়ার কাহালু উপজেলায়। বাবার নাম শামসুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চরপাথালিয়া থেকে একটি ভ্যানে চড়ে তিন বন্ধুর সঙ্গে ঘোনাপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন শুভ। পথে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে টেকনিক্যাল কলেজের সামনে পৌঁছলে দোলা পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শুভ মারা যান। ভ্যানচালকসহ চারজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিলে ভ্যানচালক লিকু শেখকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শুভর বন্ধু জাকির হোসেন (২২), নাঈম ইসলাম (২৩) ও মাজহারুল ইসলাম (২২)। তারা তিনজনই নর্থ চায়না ইলেকট্রনিক পাওয়ার ইউনিভার্সির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বাড়ি বগুড়ায়।
আহত জাকির হোসেন জানান, তারা তিনজন চীন থেকে ছুটিতে দেশে এসে বন্ধু শুভর বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে আসেন। সকালে চারজন ভ্যানে করে ঘুরতে বের হন। পথে টেকনিক্যাল কলেজের সামনে পৌঁছলে ভ্যানের একটি চাকা খুলে গেলে সবাই সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। এ সময় দ্রুতগতির বাস এসে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই শুভর মৃত্যু হয়। তাকেসহ চারজনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠান।
গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহ মুহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির জানান, পাঁচজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের মধ্যে শুভ আগেই মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিকু শেখের মৃত্যু হয়। বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দোলা পরিবহনের বাসটি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আর ওই বাসের চালককে পুলিশের কাছে হস্তান্তরে দোলা পরিবহন কর্র্তৃপক্ষকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
শুভর মৃত্যুর খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেলা ২টার দিকে ঘোনাপাড়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঘাতক চালকের গ্রেপ্তার, হতাহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ, ঘোনাপাড়া এলাকায় গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩৫ কিলোমিটার, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা (স্পিডব্রেকার) নির্মাণ, সম্প্রতি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমানের মামলার দ্রুত বিচারসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানান।
এ সময় উপাচার্য ড. একিউএম মাহবুব, প্রক্টর ড. রাজিউর রহমানসহ শিক্ষকরা গিয়ে দাবি আদায়ের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। এ ছাড়া বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় ক্যাম্পাসে শুভর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে নিয়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বগুড়ার দিকে রওনা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ছুটে যান উপাচার্য ড. একিউএম মাহবুব। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্ভাবনাময়ী শিক্ষার্থী শুভর এমন মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এ মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। এ সড়কে আগেও দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে। ভবিষ্যতে যাতে কাউকে প্রাণ হারাতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগ নেবেন বলে আশা করছি।’
