আইসিটি খাতের ওপর নির্ভরতা

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে শামিল হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশ

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫৫ এএম

অদূর ভবিষ্যতে আইসিটি ও সফটওয়্যার শিল্প দেশের রপ্তানি খাতকে নেতৃত্ব দেবে। এরই মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিদেশি আয় ও বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই খাতের ওপর ভর করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে শামিল হতে চায় বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দিয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার পার্ক, আইটি সেন্টারগুলোতে তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নযজ্ঞ চলছে। নোকিয়ার মতো ফোন তৈরি হচ্ছে দেশে। আমাজন, ওয়ালমার্টের মতো কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন হাইটেক পার্কে তরুণরা এখন কাজ করছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো জটিল সব বিষয় নিয়ে। এ জন্য স্টার্টআপ তৈরি করা হয়েছে। এর জন্য নতুন যা কিছু লাগে এসব সেন্টারে সবই আছে। ২০৪১ সাল নাগাদ একটি জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল ইকোনমি গড়ে তোলা।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আয়োজিত ডিজিটাল বাংলাদেশ ট্যুরে গাজীপুর, রাজশাহী, নাটোর, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কীভাবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে প্রস্তুতিতে আইটি খাত এগিয়ে যাচ্ছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে তৈরি হচ্ছে ডায়ালাইসিস মেশিন। এমনকি নোকিয়ার মতো বিশ্বখ্যাত ফোন তৈরি হচ্ছে।

নোকিয়ার জেনারেল ম্যানেজার নওয়াব হোসেন জানান, এখানে নোকিয়ার স্মার্ট ফোন, ফিচার ফোন সবই তৈরি হচ্ছে। এখানে আমরা যা তৈরি করছি সবই মেড ইন বাংলাদেশ। তাদের যে বক্সের ওপরে মেড ইন বাংলাদেশ লেখা থাকবে এবং হ্যান্ডসেটে যে লেবেল থাকবে, সেখানেও মেড ইন বাংলাদেশ লেখা থাকবে। সরকারের যে নীতিমালা আছে, সেগুলো যদি আমাদের ফেভারে থাকে তাহলে হয়তো আমরা আমাদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে পারব।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, স্যামসাং, নোকিয়া ও শাওমির মতো কোম্পানি এসেছে । আমরা একদিকে চাই বিশ^বিখ্যাত কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আসুক। হাইটেক পার্কে তাদের ফ্যাক্টরি সেটআপ করুক। অপর দিকে চাই বাংলাদেশের ওয়ালটন, সিম্ফনি সারা বিশ্বের বাজার দখল করুক। সেই কারণে নীতিগত সহায়তাও দিচ্ছি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমাদের আইটি সেক্টরে ট্যাক্স সম্পূর্ণ মওকুফ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রপ্তানির ওপর ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিয়েছে। বিশ্বে এ ধরনের প্রস্তাব ও নীতিগত সহায়তা অন্য কোনো দেশ তো এই মুহূর্তে দিচ্ছে না।

কালিয়াকৈরের হাইটেক সিটিতে ৫ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে নোকিয়ার কারখানা। ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার (বিডি) লিমিটেড এই কারখানা করেছে। এটি যুক্তরাজ্যের ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার এবং বাংলাদেশের ইউনিয়ন গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে। এখন ১২টি প্রডাকশন লাইনে কাজ চলছে। এর মধ্যে হ্যান্ডসেট সংযোজন হচ্ছে ৮টি লাইনে আর ৪টি লাইনে প্যাকেজিং। ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার (বিডি) লিমিটেডের হেড অব ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা নাউফ হাসান রিতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আর ৭ মাসের মধ্যে এই প্রডাকশন লাইন তারা ১৬টিতে নিয়ে যাবেন। যেখানে ১২টি থাকবে সংযোজন ইউনিট আর ৪টি প্যাকেজিং। তিনি বলছিলেন, এখনকার প্রডাকশন লাইনে তারা প্রতি মাসে আড়াই লাখ হ্যান্ডসেট উৎপাদন করতে পারেন। ২০২২ সালের মার্চ নাগাদ এটি ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ হবে। সে হিসাবে বছরে দেশের এই কারখানা থেকে অন্তত ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট উৎপাদন করবেন তারা।

জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চে উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে সেপ্টেম্বরে উৎপাদন শুরু হয় কারখানায়। নভেম্বরে দেশে উৎপাদিত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা নোকিয়া হ্যান্ডসেট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। শুরুতে আসছে ৩.৪ এবং জি ১০ মডেলের হ্যান্ডসেট দুটি। দুটি মডেল মিলিয়ে ৩০ হাজার ইউনিটের মতো বাজারে আসবে বলে জানায় কারখানা কর্র্তৃপক্ষ। এখন স্মার্টফোন দিয়ে শুরু হয়েছে, আসছে বছরের জানুয়ারি হতে ফিচার ফোনও উৎপাদন করবেন তারা। বর্তমানে এই কারখানায় কাজ করছেন ৩৫০ জন কর্মী । এসব কর্মীর সবাই বাংলাদেশি। এই ডিসেম্বরেই তাদের কর্মী সংখ্যা হয়ে যাবে সাড়ে ৬০০। কারখানা দেখতে দেখতে জানা গেল, তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিগগির এসকেডি (সেমি নকডাউন) হতে সিকেডি (কমপ্লিট নকডাউন) করতে। মানে এখন হ্যান্ডসেটের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট আমদানি করে এই কারখানায় সংযোজন করার কাজটি হচ্ছে আর ৭-৮ মাসের মধ্যে ওসব কম্পোনেন্টের বেশিরভাগ এখানেই তৈরি করবেন তারা।

নাউফ হাসান রিতুন বলেন, দেশে উৎপাদনের ফলে গ্রাহকরা অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী দামে হ্যান্ডসেট কিনতে পারবেন। এ ছাড়া ভবিষ্যতে তারা এখান থেকে রপ্তানিও করবেন। রিতুন বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিকনির্দেশনায় সরকার মোবাইল ফোন উৎপাদনে এবং মোবাইল যন্ত্রাংশ আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক ছাড়সহ নানা সুবিধা দেয়। বিপরীতে হ্যান্ডসেট আমদানিতে শুল্ক বাড়ায়। ফলে স্থানীয়ভাবে দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোর কারখানা করার হিড়িক পড়ে যায়। ২০১৮ সালে দেশে কারখানা স্থাপন করে সেখানে সংযোজিত হ্যান্ডসেট বাজারে এনেছে ওয়ালটন, সিম্ফনি, স্যামসাং, আইটেল-ট্র্যানসান ও ফাইভস্টার। এই পাঁচ কোম্পানির পরে লাভা, ওকে মোবাইল, উইনস্টার, ভিভো, অপো, রিয়েলমি দেশে কারখানা করে। এ ছাড়া সম্প্রতি নোকিয়া ছাড়াও কারখানা করে শাওমি।

রাষ্ট্র পরিচালিত বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির (বিএইচটিপিএ) কর্মকর্তারা জানান, ১২টি বড় আইসিটি কোম্পানি এই পার্কে বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এখানে কোম্পানির সংখ্যা ছিল পাঁচটি।

বিএইচটিপিএ পরিচালক এ এন এম শফিকুল ইসলাম জানান, দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এ পর্যন্ত হাইটেক পার্কে ১২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে ৪৬০ জন কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি এই শিল্প পার্ক পরিদর্শনে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘তারা (কোম্পানিগুলো) স্মার্টফোন, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিনের মতো বায়ো-মেডিকেল সরঞ্জামাদি ও জীবন রক্ষাকারী থেরাপিউটিক সামগ্রী তৈরি করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন (এসবিএফ) বিএইচটিসিতে এসবিএফ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে উন্নতমানের কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন সংযোজনের কাজ করছে। এসবিএফ কর্মকর্তা প্রকৌশলী আল-ইমরান সরকার বলেন, ‘প্রতিটি মেশিনের দাম ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। আমদানি করা যেকোনো ডায়ালাইসিস মেশিনের চেয়ে এটির দাম অনেক কম।’ দেখা যাচ্ছে বাজারমূল্য অনুযায়ী, আমদানি করা জীবন রক্ষাকারী এ ধরনের প্রতিটি ডিভাইসের দাম ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা।

সরকার জানান, সংযোজনমুখী কোম্পানিটি বিদেশি বাজার লক্ষ্য করে ভেন্টিলেশন মেশিনের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিভাইস উৎপাদনে কাজ করছে এবং ‘আমাদের শিল্প-কারখানাকে এশিয়া অঞ্চলের একটি সরবরাহ কেন্দ্রে পরিণত করতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি কোম্পানি থেকে বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছি।’

প্লাজমা উৎপাদনকারী বাংলাদেশি কোম্পানি ওরিক্স বায়ো-টেক লিমিটেড প্রাথমিকভাবে প্লাজমার বাংলাদেশের মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ পূরণের লক্ষ্য নিয়ে বিএইচটিসিতে বরাদ্দ পাওয়া ২৫ একর জমির ওপর তাদের প্ল্যান্ট গড়ে তুলেছে। প্লাজমা হচ্ছে মানবদেহে রক্তের বৃহত্তম অংশ। এ ক্ষেত্রে তারা ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বার্ষিক ২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের প্লাজমা আমদানি করতে হয়। দেশের শীর্ষ টেলিকম অপারেটগুলোর অন্যতম রবি এই পার্কে তাদের প্ল্যান্ট গড়ে তুলতে দেড় একর জমি বরাদ্দ পেয়েছে। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি তাদের সিম কার্ড ও সংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার তৈরিতে ২৬ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ১৯৯৬-২০০১ সালের মেয়াদকালে এ শিল্প পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। ওই সময় তারা এর সম্ভাবতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম শুরু করলেও পরে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে এই পরিকল্পনা বাতিল করে দেয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনের পরিকল্পনা পুনরায় হাতে নেওয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে এ ভিশন দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আইসিটি বিভাগ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০০৯ সালের আগে আইসিটি শিল্প থেকে রপ্তানি আয় ছিল ২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমানে এ আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫ সাল নাগাদ আমরা ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে চাই। পলক বলেন, আমরা চাই হাইটেক পার্কে বিশে^র বিখ্যাত বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কারখানা গড়ে তুলুক এবং একই সঙ্গে এখানে তৈরি পণ্য বিশ্ববাজার দখল করুক।

অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই শিল্পোন্নয়নে (আইএসআইডি) কাজ করে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ‘এসডিজি প্রোগ্রেস এওয়ার্ড’ পেয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছে, সেটাই হবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ভিত্তি হিসেবে সরকার তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি কর্মশালার উদ্বোধনে বলেছেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্পের বিকাশ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, বিজ্ঞানীদের ধারণা অদূর ভবিষ্যতে মানুষকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্রের সঙ্গে সহাবস্থান করতে হবে। কিছু নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। যেমন মেশিন মানুষের কর্মক্ষেত্রকে সংকুচিত করবে, সস্তা শ্রমের চাহিদা কমে যাবে, অসমতা বৃদ্ধি পাবে এবং অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বৈদেশিক বিনিয়োগ কমবে এবং প্রযুক্তি জ্ঞানের ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়বে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো যার যার গতিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে, যদি প্রযুক্তি সহজলভ্য এবং সহজে হস্তান্তরযোগ্য না হয়।

অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ যোসেফ সুম্পিটারের ‘ক্রিয়েটিভ ডেস্ট্রাক্শন’ তত্ত্ব অনুযায়ী নিত্যনতুন উদ্ভাবনের ফলে প্রচলিত কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে ঠিকই, কিন্তু নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। সে অনুযায়ী দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তিতে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস, ইন্টারনেট অব থিংস সফলভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হব। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে প্রযুক্তির সহজলভ্য ও পর্যাপ্ত হস্তান্তর নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের (ফোরআইআর) সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। তিনি বলেন, সরকার চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আসন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন সময়োপযোগী নীতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত