তাইওয়ান স্বাধীনতার দিকে এগোলে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে চীন

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫৮ এএম

তাইওয়ান যদি স্বাধীনতার নামে চীন থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়, সেক্ষেত্রে পেইচিং কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন চীনের তাইওয়ানবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মা শিয়াওগুয়াং। আগামী ২০২২ সালে তাইওয়ান ইস্যু আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিয়াওগুয়াং বলেন, ‘যদি তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি তথাকথিত স্বাধীনতা সংগ্রামের নামে কোনো প্রকার উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেয় কিংবা রেডলাইন ভাঙার দুঃসাহস দেখায়, সেক্ষেত্রে আমরাও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।’

তাইওয়ানকে ঘিরে গত কয়েক বছর ধরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তরোত্তর অবনতি ঘটছে। আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রই তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষক ও অস্ত্র সরবরাহকারী। বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বহিরাগত শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে মা শিয়াওগুয়াং বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা খবর অনুযায়ী বহিরাগত শক্তি সামনের মাসগুলোতে তাইওয়ান ইস্যুতে বেশ কিছু উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। আমরা বলে দিতে চাই, চীনও চুপচাপ বসে থাকবে না। বহিরাগত শক্তির উদ্দেশ্যে আমরা বলতে চাই, যদি তারা তাদের পরিকল্পনা থেকে সরে না আসে, সেক্ষেত্রে সামনের বছর তাইওয়ান ইস্যু আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ নেবে।’

গত ১৫ নভেম্বর ভার্চুয়াল মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। দুই দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য, জলবায়ু, জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি, তাইওয়ানের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। এসব ইস্যুর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু ছিল তাইওয়ানের স্বাধীনতা সংগ্রাম, যাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা’ বলে উল্লেখ করে আসছে চীন এবং অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র নানা কৌশলে এই ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতাকে’ মদদ দিচ্ছে।

বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ানের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতাকে’ মদদ দেওয়া ‘আগুন নিয়ে খেলা’ করার মতো ব্যাপার এবং এটি অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হাত পুড়বে’। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে চুক্তি রয়েছে, তাই মেনে চলতে ইচ্ছুক তার দেশ। তার বাইরে অন্য কোনো কিছুতে জড়ানোর আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত