ব্রিটিশ স্ক্যান্ডালে জড়ালেন প্রীতম আহমেদ

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫০ পিএম

ব্রিটেনের ইতিহাসে অন্যতম স্ক্যান্ডাল নিয়ে বিবিসি প্রযোজিত “A Very British Scandal” সিরিজ এই মুহূর্তে BBC 1 এ প্রদর্শিত হচ্ছে। এই সিরিজে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের ‘বালিকা’খ্যাত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী প্রীতম আহমেদ। অভিনয় ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান

ব্রিটিশ কাজটা নিয়ে জানতে চাই

মার্গারেট ক্যাম্পবেল নামের একজন ব্রিটিশ সমাজপতির পারিবারিক জীবনের সত্য ঘটনা ব্রিটেনে ১৯৬০ সালে অন্যতম স্ক্যান্ডালে পরিণত হয়। ডার্টি ডাচেস নামে সেই ঘটনা নিয়েই এই সিনেমা নির্মিত হয়েছে। 

কাজটার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হয়েছেন?

আমি একজন অভিনেতা হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তারাই আমার প্রোফাইল ও দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন সময় কাজের জন্য অডিশনে ডাকেন। আমার পারফরম্যান্স পছন্দ হলে কাজে দেন।

কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া বাঙালি হয়ে ইংলিশ সোসাইটির মিডিয়াতে কাজ করা একটু ঝামেলার। বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় যাতে বাঙালি হিসেবে আমি আমার দেশ বা জাতিকে কখনো ছোট না করি। ইংরেজদের এটিকেট, হিউমার শিল্প বোধ সবই আমাদের থেকে আলাদা। এখানকার একটা লাইটম্যান বা ট্রলি অপারেটরও তার বিষয়ে মিনিমাম গ্র্যাজুয়েট ও বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। এদের সিনেমা নির্মাণের ভাষা ও আচরণ সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক। অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে এরা সিনেমা নির্মাণ করেন না। আগে এবং এখনো বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক সিনেমা, হলিউড সিনেমা এ রকম নানারকম মুখরোচক গল্প শুনেছি। আর এখন আমি সেসবের একটি অংশ। ইন্ডাস্ট্রি বলতে পৃথিবীতে যা বোঝায় আমি তাই উপভোগ করছি। কতটা দক্ষ ও বৃহৎ প্রস্তুতিতে এখানে সিনেমা নির্মাণ করা হয় সেটা যারা না দেখেছেন তাদের বুঝিয়ে বলা সম্ভব হবে না। একটা অভিজ্ঞতা খুব ভালো, আর তা হচ্ছে আপনি আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মান ও সম্মানী পাবেন। কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।  

গান ছেড়ে অভিনয়ে কেন?

আসলে আমি এখানকার মেইনষ্টিম মিডিয়ায় কাজ করবো বলে অনেক বছর প্রস্তুতি নিয়েছি। যেই সময়টাতে একটু বিরতি নিতে হয়েছে। বাংলাদেশের সংগীত জীবন আর আন্তর্জাতিক সংগীত সোসাইটি এক নয়। আমার মনে প্রাণে গান সেটা ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না। বলতে পারেন আমি আগের চাইতে বেশি  সংগীতে মনোনিবেশ করেছি। প্রথমে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছি, তারপরে এখন ওয়েস্টার্ন মিউজিকে অনার্স করছি। এটা প্রায় শেষের দিকে। আমি ইংরেজি গানের ক্যারিয়ার করবো। আমি এখানকার সংগীত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতা করতে ইচ্ছুক। সেসবের প্রস্তুতি চলছে। সব ঠিক থাকলে ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক সংগীতে আপনারা নতুন এক প্রীতম আহমেদকে পাবেন।

কবে নাগাদ নতুন গান পাবো?

বাংলা গান কিছুদিন পরই পাবেন। ইংরেজি গানের কাজ চলছে।

বিদেশের মাটিতে দিনকাল কেমন কাটছে?

দেশে থাকতে না পারার জন্য হতাশ লাগে, কষ্ট হয়। তবে এখানে কাজের তৃপ্তি আছে, সম্মান আছে সেসব নিয়ে আনন্দ পাই। দেশে আমি ২১ বছর সংগীত চর্চা করেছি। চোখের সামনে সবকিছু ছোট বড় হতে দেখেছি। ভণ্ড লোকেরা কীভাবে সাধু সেজে শিল্পীদের গলা চেপে ধরে সেটাও জানি। বিদেশে অন্তত ওই জিনিসটা দেখতে হয় না। এ কারণে বাংলায় গান না করতে পারার আফসোস থাকলেও বেঁচে থাকার আনন্দ আছে।

গান না অভিনয়? কোনটাকে এখন বেশি প্রাধান্য দিতে চান?

আমি আদ্যোপান্ত শিল্পী দুটোকেই সমান প্রাধান্য দেই। দুটোর জন্যই আমি সমান পরিশ্রম করি।

আপনার স্ত্রীও বিদেশের মাটিতে। সংসার কেমন চলছে?

আমরা ভালো আছি।

কপিরাইট ইস্যু নিয়ে চলমান আপনার মামলাগুলোর কি অবস্থা?

আমাদের দেশে তো আসলে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। এখানে নিম্ন আদালতে সচিবদের ফোনে আদালতের আদেশ বদলে যায়। তদন্ত রিপোর্ট সাক্ষী প্রমাণ সব আমার পক্ষে থাকার পরও নিম্ন আদালতে অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে আদেশ পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল যা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। মোবাইল অপারেটরগুলো আদালতের ইট কাঠ সব কিনে রেখেছে। সে কারণে মহামান্য হাইকোর্টে মামলাটি বিচার চেয়ে আবেদন করে রেখেছি। আদালতের যখন মর্জি হবে তখন হাজির হবো। তবে বাংলাদেশ এর কাছে থেকে আমি আর কিছু আশা করি না।

দেশে ফিরবেন কবে?

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরবো। তা ছাড়া এখানে কাজের শিডিউল দেয়া আছে। পড়ালেখা আছে। সব মিলিয়ে একটু সুযোগ পেলেই যাবো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত