ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতো বড় ব্যবসায়ীদেরও ১৫ শতাংশ ঋণ পরিশোধের শর্তে খেলাপিমুক্ত থাকার সুযোগ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে ঋণ পরিশোধের ছাড় বাড়ানোর দাবি নিয়ে যান। তবে গভর্নর এই ছাড় বাড়ানোর দাবি না রাখলেও ২০২১ সালের বকেয়া ঋণের ২৫ শতাংশ পরিশোধের শর্ত শিথিল করে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ীরা দাবি নিয়ে এসেছিলেন। গভর্নর তা শুনেছেন। কিন্তু তিনি নতুন বছরে এই ছাড় বাড়ানোর পক্ষে নন। তবে বিদায়ী বছরে অনেক ব্যবসায় ২৫ শতাংশও ঋণ দিতে পারবে না জেনে এই হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের বিদায় দিয়েই গতকাল রাতে এই ছাড় দিয়ে সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে গত মঙ্গলবার ব্যাংকার্স সভাতেও একই সিদ্ধান্তের কথা জানান গভর্নর ফজলে কবির। তবে এর পরের দিন বুধবার সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তারা ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলে আর খেলাপি হবে না এমন এক সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দিলে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা দেখা দেয়। সে সময় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার জন্য প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া আগে থেকে যারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছিলেন তাদের ঋণ পরিশোধের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি না দিয়েও খেলাপিমুক্ত রাখে।
চলতি বছরে এই সুবিধা কিছুটা কমিয়ে আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনার কারণে চলতি বছর একজন ঋণগ্রহীতার যে পরিমাণ পরিশোধ করার কথা তার ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলেই খেলাপিমুক্ত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে গতকালের বৈঠকে ওই হার কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই গত ১৫ ডিসেম্বর গভর্নরকে চিঠি দিয়ে আগামী বছরেও খেলাপির ছাড় বহাল রাখার দাবি জানান। তাদের যুক্তি হলো, বিশ্বে করোনা আবার বাড়ছে। ইউরোপ-আমেরিকায় ভাইরাসটি আবার ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো হলেও রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রে আবার নানা বিধিনিষেধ আসছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব তৈরি হবে। আর এটা হলে ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণের কিস্তি জমা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
