নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট কাল থেকে

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:২৫ এএম

ব্যর্থতার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও পাকিস্তান সিরিজের পর টেস্টে পুরনো ব্যর্থতা ঢাকার আরেকপ্রস্থ চেষ্টায় আবার মাঠে নামছেন মুমিনুল-মুশফিকরা। কাল ভোর ৪টা থেকে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড বরাবরই নিজ মাঠে বাংলাদেশের জন্য বিভীষিকা। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের যেকোনো দলের জন্যই নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন এক ভয়ের নাম। আর সেখানেই ব্যর্থতার পথ থেকে আলো খোঁজার মিশনে নামছে মুমিনুল হকের দল। দুই টেস্টের এ সিরিজ নতুন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় অ্যাসাইনমেন্ট।

২০১৯-এ উদ্বোধন হওয়া টারাঙ্গার মাউন্ট মঙ্গানুই স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য হৃদয় জুড়ানো। কাঠামোহীন সবুজ গ্যালারি ছাপিয়ে অদূরে সমুদ্র লাগোয়া মঙ্গানুই পাহাড়ের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা নজর কাড়ে। কিন্তু হৃদয় জুড়ানো পরিবেশ বাংলাদেশ দল খুব একটা স্বস্তি  দেবে না। তার কারণ এ মাঠের অতীত। নিউজিল্যান্ড গত দুই বছরে দুটি টেস্ট খেলেছে এই মাঠে। একটিতে ইনিংস ব্যবধানে আর অপরটিতে ১০১ রানে জিতেছে কিউইরা। ২০১৯ সালে এ মাঠের উদ্বোধনী টেস্টে ইংল্যান্ডের ৩৫৩ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৬১৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংলিশদের ১৯৭ রানে অলআউট করে জিতে যায় ইনিংস ও ৫৬ রানে। গত বছর নিজেরা ৪৩১ রান তুলে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দেয় ২৩৯ রানে। ১৯২ রানের সঙ্গে আরও ১৮০ রান যোগ করে ৩৭৩ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানকে ২৭১ রানে রুখে দিয়ে কিউইরা এবার জেতে ১০১ রানে। দুই টেস্টেই পেসারদের স্পষ্ট আধিপত্য ছিল। এক বছর পর আবার টেস্ট ফিরছে এই মাঠে।

ভেন্যুর অতীতের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অতীতও সুখকর কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে না। দেশটিতে মোট ৯ টেস্টের সবকটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৫টিই ইনিংস ব্যবধানে। হতাশার বিষয় ২০১৯-এ সবশেষ সফরের দুই টেস্টই ইনিংস ব্যবধানের হার। এছাড়া ওই সিরিজেই ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার মতো বিভীষিকার ঘটনাও বাংলাদেশকে নাড়া দেয় এখনো। দল তাই ওই সিরিজ ছাপিয়ে আরও দূরে তাকাচ্ছে। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল সিরিজটি নিয়ে আলোচনা করছেন ক্রিকেটাররা। কিছুদিন আগে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন জানান, ২০১৭ ওয়েলিংটন টেস্টে তাকিয়ে তারা। যেবার ৮ উইকেটে ৫৯৫ করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ, যা টেস্ট ক্রিকেটের নিজেদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। সেই ব্যাটিং থেকে অনুপ্রেরণা পেতেই পারেন মুমিনুল হকরা। সঙ্গে যোগ হবে দু’দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। বে ওভালের পাশের মাঠের সে ম্যাচে আশা জাগানিয়া পারফরম্যান্স পেস বোলিং আর ব্যাটিংয়ে। নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের ডেভন কনওয়ে ও পেসার নিল ওয়াগনার ছিলেন। ওয়াগনার করেছেন ১৪ ওভার, মুশফিকুর রহিমদের জন্য যা অত্যন্ত জরুরি ছিল। তাকে সামলেই দুই হাফসেঞ্চুরি ও একটি চল্লিশ ছাড়ানো স্কোর পেয়েছে বাংলাদেশ। মাহমুদুল হাসান জয় ও মুশফিকুর রহিমের সমান ৬৬ এবং লিটন দাসের ৪১ রান ছিল ভালো ব্যাটিং প্রস্তুতির উদাহরণ। আবার ইয়াসির আলি, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তদের যথাক্রমে ২১, ২০ ও ২৭ রান ছিল আশাজাগানিয়া। সব মিলিয়ে এসেছে ৮ উইকেটে ২৬৯। প্রস্তুতি ম্যাচে পাওয়া প্রাপ্তি ও ভুল নিয়ে বিশ্লেষণ শেষে কঠিন সিরিজটিতে ভালো করার প্রত্যাশা নিয়েই নামবে দল।  টিম অপারেশন্স ম্যানেজার সাবেক ব্যাটসম্যান নাফিস ইকবাল জানিয়েছেন, ‘অনেক ব্যাটসম্যান রান করেছে, কিছু ব্যাটসম্যান ক্যামিও খেলেছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা ক্রিজে সময় কাটাতে পেরেছে। তো প্রস্তুতির দিক থেকে টিম ম্যানেজমেন্ট সন্তুষ্ট। কারণ এটা চ্যালেঞ্জিং ও কঠিন ছিল, সবাই জানে নিউজিল্যান্ড ভালো দল, তারা নিজের মাঠে দুর্দান্ত। কিন্তু আমাদের দলটাকেও ভালো মনে হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ একটা ভালো টেস্ট ম্যাচ আশা করতে পারি আমরা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত