ডিজিটাল আইন নিয়ে মন্ত্রী

তদন্ত ছাড়া সাংবাদিককে গ্রেপ্তার নয়

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৩৮ এএম

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তাকে সমন দিতে হবে। মামলা হওয়ার পর সাংবাদিক জামিন চাওয়ার সুযোগ পাবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ওকাব (ওভারসিজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ) আয়োজিত ‘মিট দ্য ওকাব’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রশ্নপর্বে বিচারবহির্ভূত হত্যা, বিদেশে বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতার বিষয়ও উঠে আসে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়, তাহলে প্রথমে সেটির তদন্ত করবে আইসিটি অ্যাক্টের আওতায় গঠিত তথ্যানুসন্ধান সেল। সেই সেল মতামত দেবে যে মামলাটা ওই আইনে নেওয়া হবে কি না?’

আনিসুল হক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করেছি যে এ রকম মামলা করলে একজন সাংবাদিককে ইমিডিয়েটলি গ্রেপ্তার করা যাবে না। তাকে হয় সমন দিতে হবে, না হলে মামলা নেওয়ার পর সুযোগ দিতে হবে যাতে তিনি আদালতে এসে জামিন চাইতে পারেন। আর সেলের ইনকোয়ারি সম্পন্ন না হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো সাংবাদিককে অ্যারেস্ট করা যাবে না।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছুটা অপব্যবহার ও কিছুটা দুর্ব্যবহার হয়েছে বলে স্বীকার করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর কারণে একটা ধারণা জন্মেছে যে এই আইন বাক্ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রোধ করতে করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই আইন এর কোনোটাকেই বন্ধ বা বাদ দেওয়ার জন্য করা হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয় না বলেও দাবি করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘আমার দেখা মতে, বাংলাদেশে কোনো এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং হয়নি। আর সেজন্যই এ রকম দাবি আমলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না। আমি যখন প্রথম আইনমন্ত্রী হই, আমাকে বলা হলো ২৪১টি এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং ও গুমের অভিযোগ। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বললাম ২৪১টি অভিযোগের বিষয়ে হিসাব দেন। পরে দেখা গেল, এর মধ্যে দুটো সত্য। ২৩৯টি মিথ্যা। একটা হচ্ছে এক পুলিশ কর্মকর্তা একজনকে গুলি করে মেরেছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। এ রকম ঘটনা ঘটলে সরকার আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা সেটাই নেয়।’

এ সময় বিদেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো কাজই আইনের বাইরে করতে পারে না। সরকারের কিছু করার থাকলে সেটাকে আইনের ধারায় এনে কাজটি করতে হয়।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওকাবের সমন্বয়ক ও বিবিসির সংবাদদাতা কাদির কল্লোল। ওকাবের সদস্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন এবং সংগঠনের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম মিঠু এ সময় বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত