দিনের শেষদিকে এবাদত হোসেন টম ব্লান্ডেলের উইকেট নেওয়ায় স্বস্তিটা বেশি। নয়তো ৪ উইকেটে আড়াইশো রানে নিউজিল্যান্ডের দিন শেষ করা বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখত। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের প্রথম দিন স্বাগতিকদের অর্ধেক ব্যাটসম্যানকে ড্রেসিংরুমে ফেরানোয় মুমিনুল হকরাও দিনের লড়াইটা সমানে-সমান করেছে বলাই যায়। ৮৭.৩ ওভারে প্রথম দিন ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট খেলতে নামা ডেভন কনওয়ের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে তারা। নিজেদের চোখে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। আজ বাকি ব্যাটসম্যানদের দ্রুত ফেরালে উল্টো এগিয়ে থাকার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩২ রান করা নিকোলস এখনো উইকেটে। রাচিন রবীন্দ্র ও কাইল জেমিসনরাও ব্যাটিং পারেন। তবুও টেল এন্ডারদের সামনে চলে আসায় নিউজিল্যান্ডকে দ্রুত বেঁধে ফেলার স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ।
এই টেস্টে মুমিনুলরা মাথা উঁচু রেখেছে লড়াই ফিরিয়ে দিয়ে। দুবার নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা জুটি গড়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ বের করেছিল, দুবারই বাংলাদেশ বোলাররা তা রুখে দেন। এতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল নিজেই। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভিন্ন চিন্তা করেন না বলে ‘রক্ষণাত্মক অধিনায়ক’ বলে দুর্নাম তার। কাল সেই ধারা ভেঙে সফল হয়েছেন মুমিনুল। ২২৭ বলে ১২২ রান করে উইকেটে জমে যাওয়া কনওয়েকে আউট করতে বল হাতে তুলে নেন। তার তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই লেগ স্ট্যাম্পের বাইরের বল চেজ করতে গিয়ে লিটনের হাতে ধরা পড়েন কনওয়ে। ১৬ চার ও ১ ছক্কায় নিজ দেশে প্রথম খেলতে নেমে তৃতীয় টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পাওয়া ব্যাটসম্যানের ইনিংস থামে। দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট ইনিংসেই সেঞ্চুরির আনন্দ কনওয়ের। ওই ওভারেই ব্লান্ডেলকেও ফেরাতে পারতেন মুমিনুল। ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ উঠলেও তা প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো শান্তর কাছ থেকে কিছু দূরে পড়ে। অবশ্য ওই তিন ওভারের পর আর বল করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম উইকেট পেলেন তিনি।
পার্টটাইম স্পিনার মুমিনুল ১ উইকেট নিলেও সাফল্যহীন ছিলেন তাসমিন-মিরাজরা। ২০ ওভারে ৫ মেডেনে ৬১ রান দিয়ে তাসকিন উইকেট পাননি। মেহেদী হাসান মিরাজও ২৭ ওভারে ৭ মেডেনে ৭২ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। এবাদত দিনে নিজের শেষ ওভারে ব্লান্ডেলের ইনসাইড-এজের ভুলে বোল্ড করার আনন্দ পান। তবে শরিফুল ছিলেন ব্যতিক্রম। দিনের শুরুতেই এই সিরিজে নেতৃত্ব দেওয়া টম লাথামকে ফেরান ১ রানে। এই ব্যাটসম্যানকে দলীয় ১ রানে উইকেটের পেছনে লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন শরিফুল। বাংলাদেশের সঙ্গে বরাবরই রান পাওয়া লাথাম বিদায় নেওয়ায় আত্মবিশ্বাস পান মুমিনুলরা। তবে শুরুর আনন্দ মিলিয়ে যায় ইয়ং ও ব্লান্ডেলের ১৩৮ রানের জুটিতে। প্রথম ও দ্বিতীয় সেশনের সিংহভাগ কাটিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে থামে এই জুটি। ইয়ং দ্রুত রান তুলতে গিয়ে কনওয়ের সাড়া পাননি। তাই কাছেই থাকা শান্তর থ্রো থেকে বেল তুলে নেন লিটন। জুটি ভাঙার পর ক্রিজে আসেন শেষ টেস্ট সিরিজে নামা টেইলর। করতালিতে তাকে স্বাগত জানান সমর্থকরা। উইকটে গিয়ে কোনো অসুবিধাই হয়নি অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের। উল্টো ৬৪ বলে ৫ চারে ৩১ করে সাবলীল এগোচ্ছিলেন। শরিফুলের বলে তেমনই এক সাবলীল কাভার ড্রাইভ একটু বেশি জোরে মারায় কাল হলো তার জন্য। কাভারে থাকা সাদমান বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নেন। ভাঙে কনওয়ের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি। টেইলর থাকতেই কনওয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন। নিকোলসের সঙ্গে ৩৮ রানের জুটি গড়ে মুমিনুলের বলে ফেরেন। পরে ব্লান্ডেল ও নিকোলস ৩১ রানের জুটি দাঁড় করান। ৮৭.৩ ওভারে শেষ উইকেট পড়লে আম্পায়াররা আর ৯০ ওভারের অপেক্ষা করেননি।
