নাসিক নির্বাচন

আইভী-তৈমূরের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৫৩ এএম

সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই প্রতিদিন সকাল থেকে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাচ্ছেন গণসংযোগে, করছেন সভা। আর এসব কর্মসূচিতে দুই নেতার কেউ দিচ্ছেন খেলার মাঠ বা পার্ক করার প্রতিশ্রুতি, আবার কেউ দিচ্ছেন শীতলক্ষ্যা নদীর নিচ দিয়ে টানেল তৈরি ও নাগরিক সেবা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি।

অন্য প্রার্থীরাও বসে নেই। আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে ৭ মেয়র প্রার্থীর প্রত্যেকেই জনসংযোগ করছেন। এ ছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে ১৪৮ কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৩৪ জন সংরক্ষিত আসনের নারী প্রার্থীও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সমান তালে।

গতকাল শনিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ৩নং ওয়ার্ডে গণসংযোগে বের হন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। সেখানে কাউন্সিলর প্রার্থী শাহজালাল বাদলের বাড়ির সামনে নির্বাচনী সভায় অংশ নেন। বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ এ সময় আইভীকে অভ্যর্থনা জানান। ফুলের নৌকা উপহার দেন কাউন্সিলর প্রার্থী বাদল। যিনি বহুল আলোচিত সাত খুনের মামলার ফাঁসির দণ্ড পাওয়া নূর হোসেনের ভাতিজা। সম্প্রতি এই ওয়ার্ডের আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হোসেন প্রচারণায় নামলে বাদল ও তার লোকজন তাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্বাচনী সভায় মেয়র প্রার্থী আইভী বলেন, ‘এই ৩নং ওয়ার্ডে আমি ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি। রাস্তাঘাট হয়েছে, এখন খেলার মাঠ, কবরস্থান ও পার্ক প্রয়োজন। সরকারি জায়গা না থাকায় আমরা এগুলো করতে পারিনি। আগামীতে জমি একোয়ার করে এসব করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুবান্ধব নগরী গড়তে বলেছেন, আমরা সেই পথেই এগোচ্ছি। জালকুড়িতে ময়লা ডাম্পিং করে প্রসেসিং করার জন্য ৮০০ কোটি টাকা আমাকে বরাদ্দ দিয়েছেন। সেই কাজ শেষ পর্যায়ে। আমি কখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি করিনি। দলমতের ঊর্ধ্বে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। আমার কাছে সবাই সমান।’

গত কয়েক দিনের গণসংযোগে নৌকার মেয়র প্রার্থী আইভী ভোটারদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, আগামীতে নির্বাচিত হলে শীতলক্ষ্যা নদীতে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। নারায়ণগঞ্জকে ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলবেন। যারা ছাদ-বাগান করবে তাদের হোল্ডিং ট্যাক্সে ছাড় দেবেন। এ ছাড়াও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চাহিদামতো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অন্যদিকে গতকাল সকালে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড় বন্দরের ২২ ও ২১নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের প্রার্থী, আমি উন্নয়নের স্বার্থে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে গত ১৮ বছরে নাগরিক সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নগরবাসী এখন নতুন চায়, পরিবর্তন চায়। নগরবাসী এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, যার প্রতিফলন আগামী ১৬ জানুয়ারি দেবে। বিগত ৫০ বছর যাবৎ আমি খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে আছি। মানুষ ভালো করে জানে আমি তাদের উন্নয়নের বাহক হতে পারব।’

দল (বিএনপি) থেকে বসে যেতে (নির্বাচন না করা) বললে কী করবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তৈমূর আলম বলেন, ‘আমি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমি জনগণের প্রার্থী হয়েছি, জনগণের জন্য লড়ব এবার। বসে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বন্দরের মদনগঞ্জ নারায়ণগঞ্জের আগে পৌরসভা হয়েছে। সে তুলনায় উন্নয়ন কী হয়েছে তা বন্দরবাসী ভালো জানেন। একটি ব্রিজ করার আশা দিয়ে ১০ বছর পার করেছে, কিন্তু করতে পারেনি। চট্টগ্রামে যদি নদীর নিচ দিয়ে টানেল হতে পারে, বন্দরেও শীতলক্ষ্যা নদীর নিচ দিয়ে টানেল হবে। একাধিক ব্রিজ হবে। বন্দর শহরের সমান হবে।’

গত কয়েক দিনের প্রচারণায় হাতি প্রতীকের মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারও ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনিও সবুজ নগরী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন ‘অযাচিত’ করের বোঝা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাড়িতে বসানো মোটরপাম্পের ওপর নির্ধারিত ট্যাক্স মওকুফ করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। ছাদ-বাগান করলে তিনিও ট্যাক্স কমিয়ে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন অন্যান্য মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরাও। সব ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও লিফলেট বিলি করছেন। তারাও মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন।

নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডের ভোটাররা জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সাতজন মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে সেলিনা হায়াৎ আইভী ও অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের মধ্যে। ভোটাররা বলছেন সৎ যোগ্য ও ভালো লোককে তারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

২৭টি ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৯ জন পুরুষ ভোটার ও ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৭ জন নারী ভোটার রয়েছে। ইভিএমের মাধ্যমে আগামী ১৬ জানুয়ারি এই সিটিতে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত