গ্যারেজ মালিকের মৃত্যু, র‌্যাবের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ০২:১৯ এএম

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে র‌্যাবের নির্যাতনে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ‘নিহত’ আসাদুল ইসলামের (৪৫) পরিবারের দাবি, মাদক উদ্ধারের অভিযানের নামে বাড়ির একটি ঘরে আটকে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নির্যাতন করে তাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে। তবে র‌্যাবের ভাষ্য, আসাদুল ইসলামের বাড়িতে মাদক থাকার খবরের ভিত্তিতেই অভিযানে যায় তারা। তখন জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিলে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় র‌্যাব টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা করেছে। অবশ্য থানা পুলিশ জানিয়েছে, আগে আসাদুলের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা মাদকের অভিযোগ ছিল না। 

আসাদুলের স্বজনরা জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি থানার হাসাইল গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে তিনি। এরশাদনগর ৫নং ব্লকে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। সেখানে একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করতেন।

আসাদুলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে র‌্যাব পরিচয়ে ৬-৭ জন ব্যক্তি তাদের টিনশেড বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে মাদক আছে এমন সংবাদে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এর কিছুক্ষণ পর র‌্যাবের পোশাকে আরও একটি দল আসে বাড়িতে। মাদকের তথ্য জানতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আসাদুলকে ঘরের ভেতর আসাদকে আটকে রেখে নির্যাতন করে।

জেসমিনের দাবি, র‌্যাবের নির্যাতনেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর দাফন শেষে থানায় মামলা করবেন বলেও তিনি জানান।

আসাদুলের কলেজপড়–য়া ছেলে নিহাদ বলেন, ‘বাবাকে যখন মারধর করা হচ্ছিল তখন আমাকে পাশের রুমে আটকে রাখা হয়। র‌্যাব সদস্যরা আমাকে মেরে ফেলবে এমন হুমকি দিয়ে বাবার কাছ থেকে তথ্য জানতে চায়। কিন্তু আমার বাবা বরাবরই মাদকের সঙ্গে জড়িত না বলে জানান। এ সময় র‌্যাবের সদস্যরা পাশের রুম থেকে আমাকে চিৎকার করার পরামর্শ দেয় যেন বাবা ভয়ে স্বীকারোক্তি দেয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে অচেতন অবস্থায় বাবাকে র‌্যাবের গাড়িতে উঠিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে আনার পথেই বাবা মারা গেছে।’

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বদরুন্নেসা বলেন, ‘হাসপাতালের রেজিস্টার খাতায় মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কথা লেখা আছে।’

এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত র‌্যাব সদস্যরা ঘটনার বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে রাত ৯টায় হাসপাতালে আসেন র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মোমেন। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহত আসাদুল মাদক কারবারে জড়িত এমন খবরে র‌্যাব সদস্যরা তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পরে সেখানে র‌্যাব সদস্যদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় দুই র‌্যাব সদস্য আহত হয়। আহত অবস্থায় আসাদকে হাসপাতালে নিয়ে আসার ২০ মিনিট পর তিনি মারা যান।’

মামলার সুরতহালকারী কর্মকর্তা এসআই সজল বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থান্দার কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি (অপারেশন) রবিউল আজম জানান, নিহত আসাদুল ইসলাম আসাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা মাদকের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত