এমভি অভিযান-১০-এ অগ্নিকান্ডে আরও এক মৃত্যু

লঞ্চের ২ ড্রাইভার কারাগারে

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ০২:২৪ এএম

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি (মোটর ভেহিক্যাল)   অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকা- ও হতাহতের ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত  ৬ নম্বর আসামি লঞ্চের ইনচার্জ ড্রাইভার মো. মাসুম বিল্লাহ ও ৮ নম্বর আসামি দ্বিতীয় ড্রাইভার আবুল কালাম আজাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

গতকাল রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে নৌ আদালতে এই দুজন আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। শুনানি নিয়ে আদালতের বিচারক জয়নাব বেগম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রসিকিউটিং অফিসার  বেল্লাল হোসাইন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘ইঞ্জিনরুমের সার্বিক দায়িত্ব ইঞ্জিন ড্রাইভারদের ওপর বর্তায়। কিন্তু এ ঘটনায় তারা কেবল দায়িত্বে অবহেলাই করেননি, অগ্নিকান্ডের পর তাদের ভূমিকা ছিল ধৃষ্টতাপূর্ণ ও পলায়নপর। তারা যদি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তদারকি করে সঠিকভাবে ইঞ্জিনরুম  পরিচালনা করতেন, তাহলে হয়তো স্মরণকালের এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঠেকানো যেত।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তার যুক্তিতে বলেন, ‘আসামিরা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সাধ্যমতো চেষ্টা করেও সফল হননি। এতে তাদের অবহেলা ছিল না।’ এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর অভিযান-১০ লঞ্চের ইনচার্জ মাস্টার রিয়াজ সিকদার ও দ্বিতীয় মাস্টার খলিলুর রহমান আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় একই আদালত। ইতিমধ্যে লঞ্চের অন্যতম মালিক হামজালাল শেখ গ্রেপ্তারের পর কারাগারে রয়েছেন।

গত ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে বরগুনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটি। রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠির পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকার সুগন্ধা নদী অতিক্রম করার সময় লঞ্চটিতে আগুন ধরে যায়। যাত্রীদের বেশিরভাগ তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে মাঝনদীতে থাকা লঞ্চটির প্রায় পুরো অংশে আগুন জ্বলতে থাকে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আগুনে দ্বগ্ধ হয়েছেন অন্তত ৮০ জন। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার নৌ আদালতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের পক্ষে ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত