দেশে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। প্রায় দুই মাস কিছুটা স্থিতিশীল থাকার পর গত ১০ দিন ধরে রোগী, মৃত্যু ও শনাক্ত হার বাড়ছে। বিশেষ করে গত সাতদিনে তার আগের সাতদিনের তুলনায় রোগী বেড়েছে ৩২ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও মৃত্যু বেড়েছে ২৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। এমনকি সাতদিনে আগে গত ২৬ ডিসেম্বর শনাক্ত হার ছিল ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সেটা সাতদিন পর গতকাল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯১ শতাংশে।
এমন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী ও শনাক্ত হারের রেকর্ড হয়েছে। গতকাল ৫৫৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ এর চেয়ে বেশি রোগী এক দিনে শনাক্ত হয়েছিল গত ১১ অক্টোবর ৫৯৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬৬ জনে। একইভাবে গতকাল পরীক্ষা অনুপাতে গত ১২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের হার ছিল ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর আগের দিন এই হার ছিল ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর আগে সর্বশেষ দৈনিক শনাক্তের হার সবচেয়ে বেশি ছিল গত ৭ অক্টোবর ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এমন পরিস্থিতিতে দেশে করোনার সংক্রমণ পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন গতকাল রবিবার অনলাইন বুলেটিনে বলেন, স্থিতিশীল থাকার পর সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে দেশে করোনায় সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। গত এক মাসের মধ্যে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণের মাত্রা ছিল দুই শতাংশের নিচে, অনেক ক্ষেত্রে এক শতাংশের কাছাকাছিও ছিল। গত ২৬ ডিসেম্বর শনাক্তের হার ছিল দুই শতাংশের নিচে, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তা দুইয়ের নিচে আর নামেনি। গত ৩১ ডিসেম্বর শনাক্তের হার চলে আসে দুই দশমিক ৭৪ শতাংশে।
করোনার বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, সারা বিশ্বে কভিড পরিস্থিতি বেশ নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির শুরুতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি যে একদিনে প্রায় ১৯ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরকমটা দেখা যায়নি যেটা দুই থেকে তিন দিন আগে দেখা গেছে বিশ্বজুড়ে। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণেই করোনা সংক্রমণের মাত্রা এ অবস্থায় গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত একদিনে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে মোট ২৮ হাজার ৭৭ জনের মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় সেরে উঠেছেন ২৫৩ জন। তাদের নিয়ে মোট ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৫৭ জন এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠলেন।
শনাক্ত ৫৫৭ জনের মধ্যে ঢাকার ৪৭৭ : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে কেবল ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা জেলাতেই শনাক্ত হয়েছেন ৪৭৭ জন। আর ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় শনাক্ত হয়েছেন আর ৮ জন। এর মধ্যে ফরিদপুর, গাজীপুর ও শরীয়তপুরে একজন করে এবং নারায়ণগঞ্জে পাঁচজন শনাক্ত হয়েছেন।
ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ আর শেরপুরে একজন করে, চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় ১৬ জন, কক্সবাজারে পাঁচ জন, চাঁদপুর ও কুমিল্লায় তিন জন করে, আর রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে একজন করে শনাক্ত হয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগের নাটোরে ১১ জন, রাজশাহী জেলায় চার জন, পাবনা ও জয়পুরহাটে দুই জন করে, আর নওগাঁ ও বগুড়ায় শনাক্ত হয়েছেন একজন করে।
খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় তিন জন করে, যশোর ও ঝিনাইদহে দুই জন করে, আর খুলনা, মেহেরপুর ও নড়াইলে একজন করে শনাক্ত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগের বরিশাল ও পিরোজপুরে একজন করে, আর সিলেট বিভাগের সিলেট জেলায় শনাক্ত হয়েছেন তিন জন।
ডিসেম্বরে মারা যাওয়াদের ৮২ শতাংশই টিকা নেননি : গত বছরের ডিসেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯১ জন। তাদের মধ্যে ৭৫ জনই করোনা প্রতিরোধী টিকা নেননি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে অধিদপ্তর জানায়, ডিসেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯১ জন। তাদের মধ্যে ১৬ জন টিকা নিয়েছেন। টিকা নেননি ৭৫ জন। শতকরা হিসাবে ১৭ দশমিক ছয় শতাংশ টিকা নিয়েছেন। ৮২ দশমিক চার শতাংশই টিকা নেননি। আবার যে ছয়জন টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ছয় জন আর দুই ডোজ বা টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ সম্পন্ন করেছিলেন ১০ জন।
