বল ও ব্যাটে দারুণ দিন

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:০৪ এএম

২০১৭ থেকে নিউজিল্যান্ডে হওয়া ১১ টেস্টে মাত্র একবার সফরকারী দলের টপঅর্ডার থেকে শতরানের জুটি আসে। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় উইকেটে ইংল্যান্ডের জেমস ভিন্স ও স্টোনম্যান ১২৩ করেছিলেন। ওই একবারের বাইরে সফরকারী দলের টপঅর্ডাররা বরাবরই ব্যর্থ হয়েছেন। ভারত ব্যাটসম্যানরাও পারেননি এই সাফল্য দেখাতে। সেখানে কাল নাজমুল হোসেন শান্ত ও মাহমুদুল হাসান জয় নিউজিল্যান্ডে দ্বিতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়া দ্বিতীয় উদাহরণ হলেন। দুজনের জুটি ছিল ১০৪ রানের।এছাড়া গত ৮ বছরে নিউজিল্যান্ডে প্রথম দুই উইকেটে ৫০ ওভার খেলা দ্বিতীয় দল হলো বাংলাদেশ। এছাড়া কাল বাংলাদেশের সঙ্গে নিজ মাটিতে সর্বনিম্ন ৩২৮ রানে অলআউট হলো কিউইরা। এই সাফল্যগুলোই বলে দেয় কাল মাউন্ট মঙ্গানুইতে দারুণ দিন কাটিয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে বোলাররা সাফল্য এনে দেন পরে ব্যাটাররা টেস্টের দ্বিতীয় দিনটিকে নিউজিল্যান্ডের হতে দেননি। স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস ৩২৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ১৭৫ রানে দিন শেষ করেছে। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকে আগানো ৭০ রান করা জয়ের সঙ্গে অধিনায়ক মুমিনুল হক ৮ রানে অপরাজিত। নিউজিল্যান্ডের চেয়ে প্রথম ইনিংসে ১৫৩ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।  

পাকিস্তান সিরিজের চার ইনিংসেই ব্যর্থ ছিলেন ওপেনাররা। নিউজিল্যান্ডে কঠিন কন্ডিশনে বোল্ট-সাউদিরা যে তাদের জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হবে তা ধরাই ছিল। কিন্তু কিউই কন্ডিশনের বদলের সঙ্গে বাংলাদেশ ওপেনাররাও বদলে গেলেন। লাঞ্চের আগে অল্প সময়ের ভয় কাটিয়ে আরও দূর গেল সাদমান-জয়ের ওপেনিং জুটি। ১৮.১ ওভারে ৪৩ রান করেন তারা। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বিশ্বকাপের আগে টেস্টের পর এই প্রথম উদ্বোধনীতে জুটিতে এত রান পেল দল। নিল ওয়াগনারের বলে তার হাতেই ধরা পড়ে ২২ রানে ফেরেন সাদমান। প্রথম উইকেটের পর ভয় ছিল দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার পুরনো রোগ ফিরে আসার। কিন্তু দুই তরুণ দুর্দান্ত খেলে দিনের প্রায় পুরোটা সময় কাটিয়ে দিলেন। চার পেসার সাউদি, বোল্ট, ওয়াগনার ও জেমিসন এবং স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রকে সামলে ধৈর্যের দারুণ পরীক্ষা দিলেন শান্ত-জয় জুটি। শান্ত ইনিংসের শুরুটা নড়বড়ে করলেও দিন গড়ানোর সঙ্গে সেট হয়ে যান উইকেটে। তাই ওয়াগনারের বলে একবার আউট হলেও বেঁচে যান। নিউজিল্যান্ড রিভিউ নিলে অবশ্য শুরুতেই থামতে হতো শান্তকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধারণ খেলছিলেন। রাচিনকে সøগ করে ছক্কা মেরে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। দারুণ ইনিংসটি বিসর্জন দেন বাজেভাবে। ১০৯ বলে ৬৪ রানে থাকার সময় ওয়াগনারের করা অফস্ট্যাম্প থেকে অনেক বাইরের বল চেজ করে গালিতে ক্যাচ আউট হন। ১০৪ রানের জুটি ভাঙলেও বিচলিত হননি জয়। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা জয় যেন পাকিস্তান সিরিজের ব্যর্থতা পুষিয়ে দিচ্ছেন। ঝুঁকি এড়াতে অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল খেলার চেষ্টাও করেননি। বিশাল ধৈর্যের সুফলও পেয়েছেন জয়। নিউজিল্যান্ডের উইকেটে ২১১ বল খেলা সহজ কথা নয়। সে কাজটাই করে মাত্র ৭ চারে ৭০ রান করে অপরাজিত আছেন এই তরুণ। অধিনায়ক মুমিনুলের সঙ্গেও তার জুটিটা দাঁড়িয়ে গেছে ২৮ রানে।

দিনের শুরুতে মাত্র ৭০ রান যোগ করতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা। ২৫৮ রানে দিন শুরু করে শেষ ৫ উইকেট তারা হারিয়েছে ৩২৮ রানে। দিনের শুরুতে শরিফুল আবারও উইকেট এনে দেন দলকে। রাচিন রবীন্দ্রকে মাত্র ৪ রানে সাদমানের ক্যাচ বানিয়ে। এরপর নিউজিল্যান্ডের লেজের তিন ব্যাটসম্যান জেমিসন, সাউদি ও ওয়াগনারকে তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বিনা উইকেট থেকে দ্রুত ৩ উইকেট পেয়ে যান মিরাজ। এদিকে জেমিসনের ক্যাচ নিয়ে এক ইনিংসে নন-কিপার ফিল্ডার হিসেবে ৪টি ক্যাচ নিয়ে সৌম্য সরকারের রেকর্ডে ভাগ বসান সাদমান। ২০১৭-তে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ইনিংসে চার ক্যাচ নিয়েছিলেন সৌম্য। আর শেষ উইকেট হিসেবে ৭৫ রানে গলার কাঁটা হয়ে থাকা নিকোলসকে ফেরান মুমিনুল।

নিউজিল্যান্ড ভাবেনি এত কম রানে গুটিয়ে যাবে তারা। তাদের জন্য এর চেয়েও বেশি বিস্ময় বাংলাদেশের ২ উইকেটে ১৭৫। এখন ভালো অবস্থানটা এগিয়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত নেওয়াটা ক্রিকেটারদের দায়িত্ব। পাকিস্তানের সঙ্গেও তো চট্টগ্রাম টেস্টে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত ভালো অবস্থানে থেকেও ম্যাচ হারতে হয়েছিল। মুমিনুলরা সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিলেই হলো। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত